দীর্ঘ ১০ মাসের কঠিন লড়াই, চোটের যন্ত্রণা এবং অনিশ্চয়তার অধ্যায় পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন করলেন ভারতের তারকা জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়া। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ রুপোর পদক জয়ের পর ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন পোস্ট করে নিজের এই কঠিন লড়াইয়ের গল্প ভাগ করে নিয়েছেন নীরজ।
নীরজের এই সাফল্য দূরত্বে মাপা যাবে না
পদক জয়ের পর নীরজ লেখেন, এই অর্জনের মূল্য শুধুমাত্র জ্যাভলিন কত দূরে গিয়েছে, তা দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, গত ১০ মাস তাঁকে এমনভাবে পরীক্ষা নিয়েছে, যা তিনি আগে কখনও কল্পনাও করেননি। একের পর এক চোট থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা, শরীরকে নতুন করে প্রস্তুত করা, নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়া এবং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি। (Neeraj Chopra)
নীরজ আরও জানান, প্রতিদিন কঠোর অনুশীলন চালিয়ে গেলেও চলতি বছরে আদৌ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও বড়সড় অনিশ্চয়তা ছিল। তবে সেই কঠিন সময়েও তিনি আত্মবিশ্বাস হারাননি। ধারাবাহিক পরিশ্রম ও মানসিক দৃঢ়তার জোরেই তিনি আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের জায়গা ফিরে পেয়েছেন।
তারকাখচিত ফাইনালে মরশুমের সেরা থ্রো
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের জ্যাভলিন ফাইনাল ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নীরজের সামনে ছিলেন বিশ্বের একাধিক সেরা জ্যাভলিন থ্রোয়ার। শ্রীলঙ্কার দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রুমেশ পাথিরাজে, পাকিস্তানের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আর্শাদ নাদিম, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কেশর্ন ওয়ালকট এবং গ্রেনাডার প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অ্যান্ডারসন পিটার্স—সবাই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
এই কঠিন লড়াইয়ের মধ্যেই দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৮৫.৮৩ মিটার জ্যাভলিন ছুড়ে মরশুমের সেরা পারফরম্যান্স করেন নীরজ। তবে শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাজে ৮৯.৭৫ মিটার থ্রো করে সোনার পদক জিতে নেন। ফলে নীরজকে রুপোর পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
চোট কাটিয়ে ফেরা, এই রুপো আরও মূল্যবান
যদিও সোনা হাতছাড়া হয়েছে, তবুও এই রুপোর পদকের গুরুত্ব নীরজের কাছে অনেক বেশি। কারণ এটি শুধু একটি পদক নয়, বরং দীর্ঘ পুনর্বাসন, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। (Neeraj Chopra)
বুমরার চোট ঘিরে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে ভারতীয় ক্রিকেটের সেন্টার অব এক্সেলেন্স
উল্লেখ্য, গত বছর বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের আগে অনুশীলনের সময় পিঠে গুরুতর চোট পান নীরজ। সেই চোটের কারণে প্রায় নয় মাস প্রতিযোগিতার বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। অবশেষে চলতি বছরের জুন মাসে দোহা ডায়মন্ড লিগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। টোকিও অলিম্পিকে ঐতিহাসিক সোনা জয়ের পর এটিই ছিল তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতি।
এবার লক্ষ্য আরও বড়
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে রুপোর পদক জয়ের মাধ্যমে নীরজ চোপড়া আরও একবার প্রমাণ করলেন, চোট হোক বা অন্য কোনও প্রতিকূলতা কিছুই তাঁকে কখনও থামিয়ে রাখতে পারেনি। বরং কঠিন সময়কে জয় করেই তিনি আবারও বিশ্বের সেরাদের মধ্যে নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছেন। আগামী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলিতে আরও বড় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এখন এগিয়ে চলেছেন ভারতের সোনার ছেলে নীরজ চোপড়া।












1 thought on “নীরজের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, কমনওয়েলথে রুপো জিতে আবেগঘন পোস্ট”