মুম্বইয়ের জুহুতে অবস্থিত কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমারের বিখ্যাত বাংলো ‘গৌরী কুঞ্জ’ এখন পেয়েছে নতুন পরিচয়। ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা বিরাট কোহলি এই ঐতিহাসিক বাংলোর একটি অংশেই তাঁর জনপ্রিয় রেস্তরাঁ ‘One8 Commune’ চালু করেছেন। ২০২২ সালে বাংলোটির একটি অংশ পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেওয়ার পর সেখানে শুরু হয় ওই রেস্তরাঁর যাত্রা। ফলে যে ঠিকানা একসময় সুরের জাদুতে মুখর থাকত, আজ সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন খাদ্যরসিকরাও।
কিশোর কুমার তাঁর মা গৌরী দেবীর স্মৃতিকে অমর করে রাখতেই বাড়িটির নাম দিয়েছিলেন ‘গৌরী কুঞ্জ’। কর্মজীবনের সাফল্যের শিখরে থাকাকালীন এই বাংলো তৈরি হলেও, এটি তাঁর কাছে কখনও বিলাসিতার প্রতীক ছিল না। বরং মুম্বইয়ের ব্যস্ত জীবন থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে শান্তি খুঁজে পাওয়ার আশ্রয় ছিল এই বাড়ি। খোলা উঠোন, সবুজ লন এবং অসংখ্য গাছপালায় ঘেরা বাংলোটি ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ঠিকানা। (Kishore Kumar’s Residence)
সঙ্গীতের ইতিহাসের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন
‘গৌরী কুঞ্জ’-কে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য স্মৃতি ও গল্প। এক সাক্ষাৎকারে কিশোর কুমার জানিয়েছিলেন, বাগানের গাছগুলিই ছিলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু। এমনকি অনেক গাছের নামও তিনি নিজেই রেখেছিলেন। বাড়ির গেটে ঝুলত তাঁর বিখ্যাত সতর্কবার্তা— ‘Beware of Kishore’, যা তাঁর রসিক ও ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বেরই পরিচয় বহন করত।
একসময় এই বাংলো ছিল সঙ্গীত জগতের অন্যতম আড্ডাকেন্দ্র। বহু জনপ্রিয় গানের পরিকল্পনা ও সৃষ্টির সাক্ষী থেকেছে ‘গৌরী কুঞ্জ’। ‘রূপ তেরা মস্তানা’, ‘পল পল দিল কে পাস’, ‘জিন্দেগি এক সফর’-এর মতো অমর গান উপহার দেওয়া কিশোর কুমারের সৃজনশীল জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জুড়ে রয়েছে এই বাড়ি।
ট্রেনের ধাক্কা খেয়েও উঠে হাঁটল গরু, ‘অলৌকিক’ ঘটনা! উত্তরপ্রদেশে ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে চর্চা
বর্তমানে বাংলোটির সংস্কার করা হলেও তার ঐতিহ্য ও পুরনো আবহ অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কাঠ, ইট ও কাচের সমন্বয়ে আধুনিক সাজে সাজানো হলেও বাংলোর ঐতিহাসিক সৌন্দর্য বজায় রাখা হয়েছে। (Kishore Kumar’s Residence)
একসময় যেখানে ভেসে বেড়াত কিশোর কুমারের সুর, আজ সেই জায়গাতেই জমছে খাদ্যপ্রেমীদের ভিড়। সঙ্গীতের ইতিহাস ও আধুনিক জীবনযাত্রার এক অনন্য মেলবন্ধনের প্রতীক হয়ে উঠেছে কিশোর কুমারের প্রিয় ‘গৌরী কুঞ্জ’।












