‘গোলমাল’, ‘রূদালি’, ‘কিং আঙ্কেল’ এবং ‘দোস্তানা’র মতো ছবিতে অভিনয় করে বিখ্যাত হয়েছিলেন অভিনেত্রী সুস্মিতা মুখোপাধ্যায়। এবার তাঁর জীবনের অন্ধকার অধ্যায়ের কথা সকলের সামনে প্রকাশ করলেন। তিনি জানিয়েছেন কেন তিনি এমন সব প্রজেক্টে কাজ করেছিলেন, যা তাঁর কোনও দিনই ভালো লাগত না। কিন্তু কেন? সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন তিনি। সেখানেই অভিনেত্রী বলেছেন, আর্থিক চাপ, অস্বাভাবিক ঋণ এবং পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব তাঁকে এমন সব কাজ করতে বাধ্য করেছিল, যা তাঁর সৃজনশীল চিন্তা ভাবনার সঙ্গে কোনও দিনও সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না (susmita mukherjee)।
susmita mukherjee: ভিডিয়ো বার্তায় কী বললেন অভিনেত্রী?
‘গোলমাল’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে বিখ্যাত হয়েছিলেন অভিনেত্রী সুস্মিতা মুখোপাধ্যায়। তাঁর পেশাগত দিক থেকে তার জীবনে নেওয়া কঠিন সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী। তিনি স্বীকার করেছেন, আর্থিক প্রয়োজনে তিনি এমন সব প্রজেক্টে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন যা নিয়ে তিনি নিজে সন্তুষ্ট নন (susmita mukherjee)।
সম্প্রতি একটি ভিডিয়োতে অভিনেত্রী তাঁর এক অনুগামীর প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। ওই অনুগামী জানতে চেয়েছিলেন, কেন তিনি এমন সব সিনেমায় অভিনয় করেছেন যা প্রায়শই নারীবিদ্বেষী ও নারীদের প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে সমালোচিত হয়েছে। সুস্মিতা জানান, এই প্রশ্নটি তাঁকে তাঁর জীবনের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
নিজের কিছু কাজ নিয়ে অতীতে যে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, সে কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘ম্যাম, আপনি কেন এইরকম বাজে সিনেমাগুলিতে অভিনয় করেছিলেন?’ আমি তখন অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ নিজের জীবনের সেই অধ্যায়ের দিকে ফিরে তাকিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করাটা বেশ অস্বস্তিকর। কেন আমি এমন সব নারীবিদ্বেষী, ‘সি-গ্রেড’ বা নারীদের অবমাননাকর সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম।”
অভিনেত্রী স্বীকার করেছেন যে নিজের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি গর্বিত নন এবং সেগুলোকে পছন্দের পরিবর্তে প্রয়োজনের তাগিদে নেওয়া সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “আমি কি আমার আত্মা বিক্রি করেছিলাম? অবশ্যই, আমি আমার আত্মা বিক্রি করেছিলাম। এটা কি আমার ভালো লেগেছিল? তখন আমার ভালো লাগেনি। এখনও এ নিয়ে আমার ভালো লাগে না। কারণ আমি তখন অসহায় ছিলাম।”
তিনি একটি ঘটনা তুলে ধরে জানান, ২০০২ সালে তাদের মিডিয়া কোম্পানি ‘প্রয়াস প্রোডাকশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে। অভিনেত্রীর বক্তব্য, শিল্পক্ষেত্রে দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সময় ব্যবসাটি বিপুল ঋণের মুখে পড়েছিল।
তিনি বলেন, “আমার জীবনের পরিস্থিতির কথা যদি বলি, তবে ২০০২ সালে আমি ও আমার স্বামী আমাদের মিডিয়া কোম্পানি ‘প্রয়াস প্রোডাকশন’ হারিয়ে ফেলি। এক কোটি টাকার ঋণ ছিল। পাশাপাশি আমাদের ‘ট্র্যাক সিনেমা’ এবং ‘অনিল চৌধুরী প্রোডাকশন’-এ আমরা দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিলাম।”
অভিনেত্রী বলেন, “তখন পাওনাদাররা দরজায় এসে হাজির হতো। ঋণ আদায়কারীরা আসত আর আমাদের গালিগালাজ করত। সে এক খুব খারাপ সময় ছিল। আর আমার সন্তানরা তখন অনেক ছোট। তাই বাধ্য হয়ে আমাকে আবার কাজে নামতে হয়েছিল। যা কিছু আয় হতো, তার সবটাই চলে যেত এক কোটি টাকার ঋণ শোধ করতে।”
শেষে তিনি বলেন, “আমরা অভিনয়শিল্পী। আমাদের হাতে সবসময় কোনও বিকল্প থাকে না। আমরা বিশাল কর্মযজ্ঞের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। কখনও কখনও সংসার চালানোর তাগিদেই আমাদের কাজ করতে হয়।”












