কলকাতার রাস্তায় বাবার সঙ্গে ব্লাডব্যাঙ্কে বরফ সরবরাহের কাজ আর সৈকতের বালিতে দেশের হয়ে সোনা জয়ের স্বপ্ন—এই দুই বিপরীত বাস্তবতার মাঝেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রাজা দাস (Raja Das Penchak Silat)। ৩৩ বছর বয়সি এই পশ্চিমবঙ্গের পেনচাক সিলাট খেলোয়াড় দিউয়ের ঘোঘলা বিচে অনুষ্ঠিত খেলো ইন্ডিয়া বিচ গেমস ২০২৬-এ সোনা জিতে ফের একবার নজর কাড়লেন।
পেনচাক সিলাটে হাতেখড়ি ও বিদেশি অভিজ্ঞতা
বাণিজ্যে স্নাতক রাজা ছোটবেলা থেকেই মার্শাল আর্টে আগ্রহী ছিলেন। ক্যারাটে বা তাইকন্ডুর বদলে অস্ত্রভিত্তিক কোরিওগ্রাফির প্রতি ঝোঁক থেকেই তাঁর পেনচাক সিলাটে আসা। ২০১৭ সালে প্রশিক্ষণ শুরু করেন তিনি। ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় উন্নত প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিলেও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার অভাবে তখন এশিয়ান গেমসের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। তবে সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ভবিষ্যতের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দেয়।

ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি ও দায়িত্বের বোঝা
২০১৮ সালেই হাওড়ায় এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় ছোট ভাইকে হারান রাজা। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বাবার কাজে সহায়তা চালিয়ে যান তিনি। খেলাধুলোর পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের জন্য ফিজিওথেরাপির কোর্সও করেছেন রাজা।
ধারাবাহিক সাফল্য ও আন্তর্জাতিক স্বপ্ন
দিউয়ে সোনা জয়ের আগে ২০২৫ সালের খেলো ইন্ডিয়া বিচ গেমস ও গোয়ার ২২তম জাতীয় গেমসে রুপো জিতেছিলেন রাজা। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫—টানা তিন বছর জাতীয় স্তরে সোনা জয় তাঁর ধারাবাহিকতার প্রমাণ। এ বার লক্ষ্য ২০২৭ জাতীয় গেমসের যোগ্যতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হয়ে পদক জয়—যে স্বপ্ন পূরণে তিনি আত্মবিশ্বাসী।













