ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষ লিগ ISL 2025-26 মরশুমের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বর্তমানে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) আর্থিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতাকে এক বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী, লিগ পরিচালনার মোট ব্যয় যেখানে ২৪.২৬ কোটি টাকা, সেখানে ক্লাবগুলোর অবদান এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি মিলিয়ে ফেডারেশনের তহবিলে জমা পড়ার কথা প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, লিগ শেষ হওয়ার পর ফেডারেশনের হাতে নিট মুনাফা হিসেবে পড়ে থাকবে প্রায় ১৪ কোটি টাকা—যা মূলত ফুটবলারদের রক্তজল করা পরিশ্রমে টিকে থাকা ক্লাবগুলোর কোষাগার থেকেই সংগৃহীত। (ISL 2025-26)
বিষয়টির বিদ্রূপাত্মক দিক হলো এই যে, বর্তমানে যখন অধিকাংশ আইএসএল ক্লাব বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে ফুটবলারদের বেতন ছাঁটাই করছে এবং পরিকাঠামো বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন একটি অলাভজনক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে AIFF কীভাবে ক্লাবগুলোর অর্থে প্রায় ১৪ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত বা ‘প্রফিট মডেল’ তৈরি করে, তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষের অবকাশ থেকে যায়।
ক্লাব কর্তারা সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন তুলছেন যে, যদি লিগ পরিচালনার খরচের পরেও অতিরিক্ত অর্থ হাতে থাকে, তবে সেই বাড়তি বোঝা কেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি হিসেবে ক্লাবগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এই উদ্বৃত্ত অর্থ কি তবে ক্লাবগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে ফেডারেশনের প্রশাসনিক বিলাসিতা চরিতার্থ করার মাধ্যম? নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায়, ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়ন যাদের কাঁধে, সেই ক্লাবগুলোই আজ ‘ভেন্টিলেশনে’, আর তাদের দেওয়া অর্থেই নিজেদের ভাণ্ডার পূর্ণ করতে ব্যস্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যদি অবিলম্বে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি মকুব বা হ্রাসের মাধ্যমে ক্লাবগুলোকে অক্সিজেন দেওয়া না হয়, তবে এই ১৪ কোটির মুনাফা শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী লোকসান হিসেবেই চিহ্নিত হবে।












