হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তর নেপাল। ২৬ তারিখ সকাল ৯টা নাগাদ নেপালের রাসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদীতে আচমকাই জলস্তর বেড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নদীর জল ঢুকে পড়ে তিমুরে এবং শ্যাফ্রুবেশি এলাকায়। ভেসে যায় বাড়িঘর, গাড়ি, পণ্য এবং একাধিক পরিকাঠামো। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা ৯, তবে এটা আরও বাড়তে পারে। নেপালের এই পরিস্থিতিতে সতর্ক বিহার।(Nepal Flood)
ভেসে গেল বাজার, সেতু
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে তিমুরে বাজার এবং সীমান্তের কাস্টমস এলাকায়। কাস্টমস চত্বরে রাখা বহু গাড়ি ও পণ্য জলের তোড়ে ভেসে যায়। সম্প্রতি তৈরি একটি সেতুও পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। রাস্তা এবং একাধিক নির্মাণ প্রকল্পেরও ক্ষতি হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। (Nepal Flood)
নেপাল পুলিশের একাধিক পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিমুরের এরিয়া পুলিশ অফিস, শ্যাফ্রুবেশির পুলিশ পোস্ট এবং রাসুওয়াগাধির পুলিশ পোস্টে জল ঢুকেছে। সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন ন’জন সশস্ত্র পুলিশকর্মী নিখোঁজ বলে খবর।
রাসুয়া জেলার মুখ্য জেলা আধিকারিক নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি গ্রাম এবং পরিকাঠামো প্রকল্পের এলাকা জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পুরো হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সঠিকভাবে হতাহতের সংখ্যা বলা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। (Nepal Flood)
নদীপাড়ে সতর্কতা
বন্যার জল ভোতে কোশি নদী পেরিয়ে ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় নেমে এসেছে। ফলে নুওয়াকোট, ধাদিং, গোরখা এবং চিতওয়ান জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, জল ধাদিংয়ের গালছিতে পৌঁছেছে। এরপর তা মুগলিনের দিকে এগোতে পারে। (Nepal Flood)
নদীর ধারে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে। রাসুয়া, নুওয়াকোট, চিতওয়ান এবং ধাদিংয়ের দিকে কাঠমান্ডু থেকে যান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং নদীর দু’পাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন।
উদ্ধারকাজে সেনা
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জরুরি বৈঠক করেছেন। নেপাল সেনা, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপাল পুলিশকে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে নামানো হয়েছে। সেনার দু’টি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে জরুরি চিকিৎসা দলও রয়েছে। (Nepal Flood)
বন্যার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
রাসুয়ায় ভারী বৃষ্টির কারণে এই বন্যা হয়নি বলে জানিয়েছে নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া দফতর। উপগ্রহের ছবিতে তিব্বতের দিকে বৃষ্টির চিহ্ন মিলেছে। ফলে তিব্বতের কোনও হিমবাহ থেকে জল নেমে এসেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও কোনও কারণ নিশ্চিত করেননি আধিকারিকেরা। (Nepal Flood)
প্রসঙ্গত, গত বছরও ভোতে কোশিতে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২৪ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন। সেই বন্যার সঙ্গে তিব্বতের একটি সুপ্রাগ্লেসিয়াল হ্রদ থেকে আচমকা জল বেরিয়ে আসার যোগ পাওয়া গিয়েছিল।
বিহারেও সতর্কতা
নেপালের এই বন্যার প্রভাব নিয়ে বিহারেও সতর্কতা জারি হয়েছে। গন্ডক ও কোশি নদী অববাহিকার জেলাগুলিকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিহারের মুখ্যসচিব প্রত্যয় অমৃত। একইসঙ্গে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নেপালে থাকা চিনা দূতাবাস। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা চিনা নাগরিক ও সংস্থাগুলির নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। (Nepal Flood)
আরও পড়ুন :- নেই পানীয় জল-শৌচালয়, রাজস্থানে বেহাল সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা











1 thought on “হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল, মৃত ৮; বিহারে হাই অ্যালার্ট”