জন্মাষ্টমীর আর খুব বেশি দেরি নেই। এই দিনটিতে বাল্যরূপেই পূজিত হন শ্রীকৃষ্ণ। ছোট্ট গোপালকে পরিবারের ছোট শিশুর মতোই স্নেহ-ভক্তি ও যত্নে রাখেন সকলে। শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় খাবার মাখন ও মিছরি, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী গোপাল পুজোয় প্রতিদিন এই ভোগ নিবেদন করা শুভ বলে মনে করা হয়। তবে আপনি কি মাঝেমধ্যেই গোপালের প্রিয় মাখন, মিছরি দিতে ভুলে যাচ্ছেন? তাতে কি রুষ্ট হতে পারে গোপাল? জেনে নিন প্রসাদ নিবেদনের পদ্ধতি। ধৰ্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মাখন ও মিছরি গোপালের সবচেয়ে প্রিয়। তবে নিবেদন না করলেও যে গোপাল রুষ্ট হয়, তা নয়। কারণ, গোপাল একেবারের পরিবারের সদস্যের মতো।
মাখন, মিছরি দিতে না পারলে ফল, চিনি, দুধ, দই, পনজিরি, ক্ষীর, রাবড়ি, মাখানা, তালের বড়া কিংবা মালপোয়া নিবেদন করা যেতে পারে। তবে প্রসাদ হিসাবে যা-ই গোপালকে নিবেদন করুন না কেন, সেক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক। জেনে নিন সেই নিয়মগুলি কী (janmastami)।
janmastami: গোপালকে প্রসাদ নিবেদনের সঠিক নিয়ম
১। প্রসাদ তৈরির সময় এবং নিবেদনের আগে স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করতে হবে। রান্নার বাসনপত্র যেন সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকে (janmastami)।
২। গোপালকে যা-ই ভোগ দিন না কেন, তাতে একটি পরিষ্কার তুলসী পাতা অবশ্যই দিতে হবে। তুলসী ছাড়া শ্রী কৃষ্ণ বা গোপাল কোনও ভোগ গ্রহণ করেন না।
৩। গোপালের প্রসাদ দেওয়ার জন্য তাঁর নিজস্ব কাঁসা, তামা বা রুপোর থালা-বাটি ব্যবহার করা উচিত। পরিবারের অন্য সদস্যদের ব্যবহৃত বাসনে তাঁকে খাবার দেওয়া যাবে না।
৪। আপনি যদি তাঁকে অন্ন বা লুচি-তরকারি ভোগ দেন, তবে তা যেন সম্পূর্ণ নিরামিষ এবং পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া তৈরি হয়।
৫। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে গোপালকে খাবার দেওয়া ভালো। সকালে বাল্যভোগ (মিছরি, ফল বা বিস্কুট), দুপুরে অন্নভোগ বা প্রধান ভোগ এবং সন্ধ্যায় শীতল ভোগ দেওয়া নিয়ম।
৬। গোপালকে প্রসাদ নিবেদনের সময় অবশ্যই তুলসি পাতা অর্পণ করুন। খাবার নিবেদনের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট ঢাকনা দিয়ে বা পর্দা টেনে রাখুন, যাতে তিনি শান্তিতে গ্রহণ করতে পারেন। এরপর প্রসাদটি সরিয়ে নিয়ে পরিবারের সকলে মিলে গ্রহণ করুন।
৭। ভোগ নিবেদনের মিনিট পাঁচেক পর গোপালকে জল নিবেদন করুন।
মনে রাখবেন, নিয়ম মানার পাশাপাশি, ভক্তিই আসল। এই ভক্তি থাকলেই গোপাল সন্তুষ্ট হবে। আর আপনার সব মনের ইচ্ছে পূরণ হবে।











