রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

জন্মাষ্টমীতে নাড়ুগোপালকে কেন দেওয়া হয় ৫৬ ভোগ? জানুন পৌরাণিক কাহিনি ও নিয়ম

Published on: August 31, 2026
---Advertisement---

শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী মানেই ঘরে ঘরে পুজো, ভোগ আর আনন্দ। আর সেই ভোগের তালিকায় বিশেষ জায়গা করে নেয় ৫৬ ভোগ। নাড়ুগোপালকে ৫৬ রকমের পদ নিবেদনের এই রীতি বহু পুরনো। কিন্তু কেন ৫৬ পদই দেওয়া হয়? এর পিছনে রয়েছে একটি প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি। (Janmashtami 2026)

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, ছোট্ট কৃষ্ণকে মা যশোদা দিনে আট বার খাবার খাওয়াতেন। সেই সময় ব্রজবাসীদের ভয়াবহ বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে শ্রীকৃষ্ণ গোবর্ধন পর্বত নিজের আঙুলের উপর তুলে ধরেছিলেন। টানা সাত দিন তিনি সেই পর্বত ধরে রেখেছিলেন। ওই সাত দিনে কৃষ্ণ কোনও খাবার খাননি।

সাত দিনে আট বেলা, হিসেবেই ৫৬

ইন্দ্রদেবের প্রবল ঝড়-বৃষ্টি থামার পর ব্রজবাসীরা কৃষ্ণের জন্য বিশেষ আয়োজন করেন। সাত দিনে আট বেলা করে যে খাবার তিনি খেতে পারেননি, তার হিসেব কষেই ৫৬ রকমের পদ রান্না করা হয়। অর্থাৎ, ৭ দিনে ৮ বেলা করে মোট ৫৬ পদ। ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা থেকেই কৃষ্ণকে সেই ভোগ নিবেদন করা হয়। সেখান থেকেই ৫৬ ভোগের প্রচলন বলে বিশ্বাস করা হয়। ২০২৬ সালে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী পালিত হবে ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। রোহিণী নক্ষত্র এবং অষ্টমী তিথির শুভ যোগে মধ্যরাতে নাড়ুগোপালের বিশেষ পুজো করা হবে। এই সময় অনেক বাড়িতেই ৫৬ ভোগ নিবেদনের আয়োজন করা হয়। (Janmashtami 2026)

ভোগে কী কী নিয়ম মানবেন?

৫৬ ভোগ শুধু পদসংখ্যার বিষয় নয়। ভোগ নিবেদনের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু নিয়ম। ভোগের সমস্ত খাবার সাত্ত্বিক ও নিরামিষ হওয়া উচিত। রান্নায় পেঁয়াজ-রসুন ব্যবহার না করাই নিয়ম। খাঁটি গাওয়া ঘি ব্যবহার করাকে শুভ বলে মনে করা হয়। ভোগের প্রতিটি পদের সঙ্গে তুলসী পাতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বাস, তুলসী ছাড়া কৃষ্ণের ভোগ সম্পূর্ণ হয় না। তাই প্রতিটি খাবারের উপর একটি করে তুলসী পাতা দেওয়া হয়। (Janmashtami 2026)

রাধা নন, কৃষ্ণের পাশে থাকেন কংসের দাসী, জানেন কি মথুরার এই মন্দিরের বিশেষত্ব?

কোন পাত্রে দেবেন ভোগ?

ভোগ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও পাত্র বাছাই গুরুত্বপূর্ণ। সোনা, রুপো, কাঁসা, পিতল, তামা, কাঠ কিংবা মাটির পাত্র ব্যবহার করার রীতি রয়েছে। প্লাস্টিক বা স্টিলের থালায় ভোগ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ভোগের থালার পাশে একটি ছোট পাত্রে পরিষ্কার জলও রাখতে হয়।

ভোগ দেওয়ার পর কী করবেন?

ভোগ নিবেদনের সময় ঘণ্টা বা করতালি বাজিয়ে নাড়ুগোপালকে আহ্বান করা হয়। এরপর প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য ঠাকুরের ঘরের দরজা বা পর্দা টেনে দেওয়া হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, এই সময় কৃষ্ণ নিভৃতে ভোগ গ্রহণ করেন।

তবে ভোগ সারা দিন ঠাকুরের সামনে রেখে দেওয়া উচিত নয়। কয়েক মিনিট পরেই ভোগ সরিয়ে প্রসাদ হিসেবে পরিবারের সদস্য ও অন্যদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। জন্মাষ্টমীর এই বিশেষ দিনে তাই ৫৬ ভোগ হয়ে উঠতে পারে ভক্তি, বিশ্বাস ও পারিবারিক আনন্দের এক সুন্দর আয়োজন। (Janmashtami 2026)

আরও পড়ুন :- কেন নষ্ট হয় না গঙ্গাজল? ধর্মের জোর, নাকি বিজ্ঞানের যুক্তি


Ranita Saha

নতুন নতুন বিষয় জানার ইচ্ছে থেকেই সাংবাদিকতার পেশায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তরের ছাত্রী। কলেজ জীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার লেখালেখি শুরু। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতেও স্বচ্ছন্দ। রাজনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এবং বিনোদন সংক্রান্ত খবর লিখতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বই একমাত্র বন্ধু। পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ এবং আঁকা ভালোবাসার বিষয়।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

2 thoughts on “জন্মাষ্টমীতে নাড়ুগোপালকে কেন দেওয়া হয় ৫৬ ভোগ? জানুন পৌরাণিক কাহিনি ও নিয়ম”

Leave a Comment