কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর নিশানায় এবার টাটা কেমিক্যালস। দীর্ঘদিন ধরে কেনিয়ার কজিয়াডো কাউন্টির ম্যাগাডিতে কাজ করছে সংস্থাটি। কিন্তু সেই কাজ থেকে দেশের মানুষ কতটা লাভ পাচ্ছেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন রুটো। তাঁর অভিযোগ, ১০০ বছরের চুক্তি থাকা সত্ত্বেও কজিয়াডোতে কোনও কারখানা তৈরি করেনি টাটা। প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘আমরা কি অন্যের দাস?’’ (Tata Chemicals)
রুটোর নির্দেশ, কেনিয়ায় টাটা কেমিক্যালসের কাজ বন্ধ করতে হবে। শুধু তাই নয়, সংস্থাটিকে সরিয়ে সেখানে দুটি নতুন কোম্পানি আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একটি সংস্থা কজিয়াডোতে বড় কাচের কারখানা তৈরি করবে। অন্যটি স্থানীয়ভাবে রাসায়নিক উৎপাদন করবে।
জুলাই থেকেই শুরু বিতর্ক
এই সংঘাতের শুরু ২৮ জুলাই। কেনিয়ার মাইনিং মন্ত্রী হাসান জোহো টাটা কেমিক্যালস ম্যাগাডিকে সব ধরনের খননকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। রয়্যালটি, রফতানির হিসাব, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানো, পরিবেশবিধি এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে কেনিয়া সরকার। স্থানীয় সংস্থার কাছ থেকে কেনাকাটা এবং কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ও ছিল অভিযোগের তালিকায়। (Tata Chemicals)
টাটা কেমিক্যালস অবশ্য সব অভিযোগ মানেনি। সংস্থার দাবি, তারা সংশ্লিষ্ট সব নিয়ম মেনে চলছে। সরকারের চাওয়া নথিও জমা দিয়েছে তারা। এখন সরকারের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থা।
ম্যাগাডিতে টাটার ভূমিকা
ম্যাগাডির কারখানায় প্রাকৃতিক খনিজ ট্রোনা থেকে সোডা অ্যাশ তৈরি করে টাটা। কাচ, ডিটারজেন্ট এবং জল পরিশোধনে ব্যবহৃত হয় এই রাসায়নিক। প্রতি বছর প্রায় ৩.৫ লক্ষ টন সোডা অ্যাশ রফতানি করে সংস্থাটি। ১৯১১ সালে ম্যাগাডিতে এই ব্যবসা শুরু হয়। ২০০৫ সালে তা অধিগ্রহণ করে টাটা কেমিক্যালস। সংস্থার দাবি, প্রায় ৫০০ কর্মী এবং তাঁদের পরিবার ছাড়াও ঠিকাদার, সরবরাহকারী ও স্থানীয় ব্যবসা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় ৩০ হাজার স্থানীয় মানুষ জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত সহায়তা পান।
আইনি লড়াইও চলছে
চলতি বছরের জুলাইয়ের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে যায় টাটা। তবে কেনিয়ার হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়নি। সরকারের দাবি, টাটার নতুন মাইনিং লাইসেন্সের আবেদন এখনও প্রক্রিয়াধীন। প্রায় ৬৩.৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সোডা অ্যাশ খননের জন্য আবেদন করেছে সংস্থাটি।
এখন রুটো টাটাকে সরানোর কথা বললেও টাটা জানিয়েছে, কেনিয়া সরকারের সঙ্গে আইনি ও নিয়ম মেনেই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে তারা প্রস্তুত। (Tata Chemicals)
আরও পড়ুন :- ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে, ‘দ্বিতীয় জীবন’ পেয়ে কী বললেন সবুজ বাড়ির মালিক?











