এবার 5G ব্যবহারকারীদের জন্য বড় খবর। ভারতের Airtel-এর পর এবার ব্রিটেনেও সাধারণ মোবাইল গ্রাহকদের জন্য চালু হলো 5G Network Slicing পরিষেবা। VodafoneThree নিয়ে এসেছে নতুন Vodafone SuperMobile। এই পরিষেবার মাধ্যমে ব্যস্ত সময়ে নেটওয়ার্কে চাপ থাকলেও গ্রাহকরা তুলনামূলক ভালো এবং দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা পাবেন। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে গ্রাহককে অন্তত ১৫ Mbps ডাউনলোড স্পিড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে Vodafone।
Vodafone 5G: কী এই Network Slicing?
বিষয়টা খুব সহজ। ধরা যাক, একটি রাস্তা দিয়ে অনেক গাড়ি চলছে। ফলে তৈরি হচ্ছে যানজট এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগছে। কিন্তু সেখানেই যদি একটি আলাদা লেন তৈরি করে কিছু গাড়িকে দ্রুত যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তাহলে দ্রুত গতিতে গাড়িগুলি যেতে পারবে। Network Slicing অনেকটা সেই রকম। একই মোবাইল নেটওয়ার্কের মধ্যে আলাদা একটি ভার্চুয়াল ‘লেন’ তৈরি করা হয়। ফলে নেটওয়ার্কে চাপ বেশি থাকলেও ওই লেনে থাকা গ্রাহকরা তুলনামূলক ভালো পরিষেবা পান।
Vodafone-এর দাবি, SuperMobile পরিষেবায় সাধারণ প্ল্যানের তুলনায় চার গুণ পর্যন্ত বেশি স্পিড পাওয়া যেতে পারে। তবে আসল স্পিড নির্ভর করবে ফোনের মডেল, কভারেজ এবং সেই সময়ের নেটওয়ার্কের চাপের উপর।
১৫ Mbps স্পিড না পেলে কী হবে?
এখানে অবশ্য কিছু শর্ত রয়েছে। এই হাইস্পিড পেতে উপযুক্ত SuperMobile প্ল্যান, 5G ফোন এবং Vodafone-এর 5G+ কভারেজ এলাকায় থাকতে হবে। এই শর্তগুলি পূরণ করার পরেও যদি প্রতিশ্রুত ১৫ Mbps স্পিড না পাওয়া যায়, তাহলে Vodafone-এর নিয়ম মেনে অতিরিক্ত কোনও Exit Fee না দিয়েই পরিষেবা ছেড়েও দেওয়া হবে।
Airtel-এর সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
ভারতে Bharti Airtel ইতিমধ্যেই পোস্টপেড গ্রাহকদের জন্য 5G Network Slicing চালু করেছে। Airtel-এর Fast Lane Technology-তে উপযুক্ত 5G ফোন থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাধারণ 5G-এর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত স্পিড পাওয়া যেতে পারে।
তবে Airtel-এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৫ Mbps স্পিডের কোনও গ্যারান্টি নেই। Vodafone-এর নতুন পরিষেবার বিশেষত্ব এখানেই। (Vodafone 5G)
দেশ জুড়ে জমি, ভুরি ভুরি অলঙ্কার, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সম্পত্তি জানেন?
এই পরিষেবা পেতে খরচ কত?
Vodafone SuperMobile-এর প্ল্যান অনুযায়ী মাসে অতিরিক্ত ৩ পাউন্ড, অর্থাৎ ভারতীয় টাকায় আনুমানিক ৩৫০ টাকা থেকে খরচ হবে। কিছু প্ল্যানে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৮ পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৪৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। চাইলে মাসে মাসে নেওয়ার একটি আলাদা অপশনও রয়েছে, যার দাম ১২ পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ১,৪০০ টাকা।
তবে এই পরিষেবা আপাতত শুধু ব্রিটেনে চালু হয়েছে। ভারতে Vodafone Idea-এর পক্ষ থেকে একই ধরনের পরিষেবা বা ১৫ Mbps স্পিডের গ্যারান্টি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, বাজারে 5G পরিষেবা ছড়িয়ে পড়ার পর এবার ‘কে বেশি ডেটা দিচ্ছে’ নয়, ‘কে ভালো নেটওয়ার্ক স্পিড দিচ্ছে’ সেই প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে। এখন দেখার ভারতেও এই পরিষেবা ঠিক কবে শুরু হয়।












