নেপালের মানাসলু শৃঙ্গ জয় করতে গিয়ে তুষারধসে প্রাণ হারালেন বাংলার পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতি গুহ। শনিবার রাতে মানাসলুর ক্যাম্প-৩ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তুষারধসে তাঁবু চাপা পড়ে মৃত্যু হয় কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা ধ্রুবজ্যোতি এবং তাঁর শেরপা গাইড ফুরসেম্বার। রবিবার উদ্ধারকারী দল প্রায় সাত ফুট বরফের নীচ থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার করে। (Bengal Mountaineer Dhruvjyoti Guha Death)
জার্মানিতে থাকতেন ধ্রুবজ্যোতি
নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি। পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। এক বহুজাতিক সংস্থায় কাজের সূত্রে কয়েক বছর ধরে জার্মানিতে থাকতেন তিনি। তবে পাহাড়ে ওঠার নেশা ছিল তাঁর। এর আগে একাধিক দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালিয়েছেন। এবার তাঁর লক্ষ্য ছিল ৮,১৬৩ মিটার উচ্চতার মানাসলু জয়।
খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই অভিযান
কয়েক দিন ধরেই মানাসলু এলাকায় আবহাওয়া খারাপ ছিল। ক্যাম্প-৩-এর উপরে তুষারধসে রোপ বা ফিক্সড লাইন এবং বেশ কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে শেরপাদের একটি দল গিয়ে রাস্তা ঠিক করে। ১৮ সেপ্টেম্বর সামিট রুট ফের খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় অনেক পর্বতারোহী নীচে নেমে আসেন। ধ্রুবজ্যোতি ও ফুরসেম্বা অবশ্য সামিটের চেষ্টা চালিয়ে যান।শনিবার রাতে ক্যাম্প-৩-এর তাঁবুতে ছিলেন দু’জন। সেই সময় আচমকা তুষারধস নামে। বরফের চাপে তাঁবু চাপা পড়ে যায়। এরপর বেস ক্যাম্পের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রবিবার সকালে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি শুরু করে। পরে বরফের নীচে তাঁদের সন্ধান পওয়া যায় । (Bengal Mountaineer Dhruvjyoti Guha Death)
পরিবারের কাছে এখনও পুরো খবর পৌঁছয়নি
ধ্রুবজ্যোতির প্রতিবেশী কৌশিক বিশ্বাস জানান, ৩১ আগস্ট তাঁর সঙ্গে ধ্রুবজ্যোতির শেষ কথা হয়েছিল। তাঁর স্ত্রীকে অভিযানকারী সংস্থা দুর্ঘটনার খবর জানিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধ্রুবজ্যোতির স্ত্রী এবং দুই সন্তান জার্মানিতে রয়েছেন। কৃষ্ণনগরে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মাও রয়েছেন। খবর পৌঁছতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চলতি মরশুমে মানাসলুতে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। বর্তমানে দু’জনের দেহ বেস ক্যাম্পে নামিয়ে আনার কাজ চলছে। (Bengal Mountaineer Dhruvjyoti Guha Death)












