ট্রেনে করে ঘুরতে যেতে তো কমবেশি সকলেই আমরা ভালোবাসি। আর যদি দিনের দিন দ্রুত এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে হয় তাহলে ভারতীয় রেলের জনপ্রিয় দুই ট্রেন বন্দে ভারত ও শতাব্দী তো আছেই। দু’টিই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং বসে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিষেবায় খাবারও দেওয়া হয়। তবে গতি, প্রযুক্তি, কোচের নকশা এবং ভাড়ার ক্ষেত্রে দুই ট্রেনের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাহলে মনে প্রশ্ন আসতেই পারে টাকা দিয়ে যখন টিকিট কাটব তখন সবচেয়ে ভালো পরিষেবাটাই তো দরকার, কিন্তু সেটা কোন ট্রেনে পাবো? চলুন জেনে নিই।
Vande Bharat vs Shatabdi: গতিতে এগিয়ে বন্দে ভারত
বন্দে ভারত ও শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্যগুলির একটি হলো তাদের গতি। রেললাইনের পরিকাঠামো যেখানে অনুমতি দেয়, সেখানে বন্দে ভারত ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। বর্তমানে কেবল তুঘলকাবাদ-আগ্রা রেলপথে এই সর্বোচ্চ গতি পাওয়া যায়।
অন্যদিকে শতাব্দী সাধারণত ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩০ কিলোমিটার গতিতে চলে। তবে এর মানে এই নয় যে প্রতিটি রুটেই বন্দে ভারত শতাব্দীর থেকে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছবে। ট্রেন কতগুলি স্টেশনে থামছে, রেললাইনের অবস্থা এবং সেই সময়ের রেল চলাচলের পরিস্থিতির উপরও যাত্রার সময় অনেকটাই নির্ভর করে।
যেমন, নিউ দিল্লি থেকে চণ্ডীগড়ের ২৬৬ কিলোমিটার পথ বন্দে ভারত প্রায় ২ ঘণ্টা ৪৮ মিনিটে যায়। পথে মাত্র একটি স্টপেজ রয়েছে। একই পথ যেতে শতাব্দীর সময় লাগে প্রায় ৩ ঘণ্টা ১৯ মিনিট, কারণ এই ট্রেন পথে চারটি স্টেশনে থামে।
তিস্তার জলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, হস্তিশাবককে বাঁচিয়ে হিরো গজলডোবার ৫ মৎসজীবী
আরামদায়ক যাত্রা মিলবে কোন ট্রেনে?
দুই ট্রেনেই সাধারণ বসার শ্রেণি এবং উন্নত বসার শ্রেণি রয়েছে। একদিকে বন্দে ভারতে হেলান দেওয়া যায় এমন সিট, মোবাইল চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা এবং পড়ার আলোর মতো ব্যবস্থা রয়েছে। উন্নত শ্রেণির কিছু আসন ঘোরানোও যায়, ফলে জানলার দিকে মুখ করে বাইরের দৃশ্য দেখাও সম্ভব।
তবে শতাব্দীর একটি বিশেষ সুবিধা হলো ‘ভিস্তাডোম’ কোচ। নির্দিষ্ট কিছু রুটে এই কোচে বড় জানলা, কাচের ছাদের অংশ এবং ঘোরানো আসন রয়েছে। ফলে যাত্রাপথের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ আরও ভালো।
ভাড়ার পার্থক্য কত?
নিউ দিল্লি-চণ্ডীগড় রুটে সাধারণ বসার শ্রেণিতে বন্দে ভারত ও শতাব্দীর ভাড়ার পার্থক্য প্রায় নেই। বন্দে ভারতে ভাড়া শুরু ৭১৪ টাকা থেকে, শতাব্দীতে ৭১৫ টাকা থেকে।
তবে উন্নত শ্রেণিতে পার্থক্য বেশি। বন্দে ভারতে ভাড়া ১,৪১১ টাকা থেকে, আর শতাব্দীতে ১,১২০ টাকা থেকে।
বন্দে ভারতে স্বয়ংক্রিয় দরজা, যাত্রী তথ্যের সুরক্ষা, জিপিএস-ভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা, উন্নত শৌচাগার এবং বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। অন্যদিকে, শতাব্দীর পুরনো কোচের বদলে এখন নতুন এলএইচবি কোচ ব্যবহার করা হয়। কিছু পরিষেবায় বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
খাবার ও ট্রেন গঠনে পার্থক্য
দুই ট্রেনেই যাত্রার সময় অনুযায়ী চা, জলখাবার, দুপুর বা রাতের খাবার এবং বিকেলের খাবার দেওয়া হয়। বন্দে ভারতের কিছু পরিষেবায় ফল, মাফিন, ব্রাউনি, শুকনো ফল, চিক্কি, ক্যারামেল পপকর্ন ও আঞ্চলিক খাবারও পাওয়া যায়।শতাব্দীর নির্দিষ্ট রুটে IRCTC-র খাবার পরিষেবার মাধ্যমে বিভিন্ন দোকান বা রেস্তরাঁ থেকে খাবার অর্ডার করলে তা সিটে বসেই পাওয়া যায়। (Vande Bharat vs Shatabdi)
তবে এখানেই শেষ নয়। এই দুই ট্রেনের গঠনেও কিছু পার্থক্য আছে। যেমন, বন্দে ভারত নিজস্ব বিদ্যুৎচালিত ট্রেন। আলাদা ইঞ্জিন দিয়ে এটিকে টানতে হয় না। সাধারণত ৮, ১৬ বা ২০টি কোচ থাকে। অন্যদিকে শতাব্দীর কোচকে সামনে থাকা ইঞ্জিন টেনে নিয়ে যায় এবং ট্রেনভেদে কোচের সংখ্যাও বদলাতে পারে।
সব মিলিয়ে, বন্দে ভারত আধুনিক প্রযুক্তি, দ্রুত গতি ও নতুন ধরনের যাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। আর দীর্ঘদিনের পরিচিত আন্তঃশহর ট্রেন হিসেবে শতাব্দীর নিজস্ব পরিষেবা ও নেটওয়ার্ক রয়েছে। তাই এবার কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে আপনার বাজেট অনুযায়ী কোন ট্রেনটির টিকিট কাটবেন সেটা একটু ভেবে নিতে পারেন।












