রাজ্যে শিল্প ও পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে একের পর এক বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যেই কলকাতায় এলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। বুধবার রাতে কলকাতায় পৌঁছন আদানি। বৃহস্পতিবার সকালে সপরিবারে কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে মা কালীর দর্শন ও পুজো দেন তিনি। এদিন তাঁর একাধিক কর্মসূচিও রয়েছে। রয়েছে নিউ টাউনে হাসপাতাল প্রকল্পের শিলান্যাস। তবে সবার নজর রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের দিকে।
Gautam Adani Visits Kalighat temple: মা কালীর কাছে পুজো দিয়েই শুরু কলকাতা সফর
বৃহস্পতিবার সকালে কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছন গৌতম আদানি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সেখানে নিয়ম মেনে পুজো দেন তাঁরা। পুজো শেষে মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাঁকে ঘিরে ধরেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। তবে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি আদানি। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলেই গাড়িতে উঠে মন্দির চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।
নিউ টাউনে ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল
কালীঘাটে পুজোর পর নিউ টাউনে যাওয়ার কথা আদানির। সেখানে প্রস্তাবিত ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর শিলান্যাস কর্মসূচি রয়েছে। এই হাসপাতাল তৈরি হলে সেখানে মোট ২,০০০টি শয্যা থাকবে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, কলকাতার স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোয় এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। হাসপাতাল ছাড়াও কলকাতায় আরও কয়েকটি প্রকল্পে আদানি গোষ্ঠীর যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে।
বন্দে ভারত নাকি শতাব্দী? গতি থেকে ভাড়া, যাত্রী পরিষেবায় এগিয়ে কোন ট্রেন?
এরপরই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে গৌতম আদানি ও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বৈঠকে রাজ্যে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন শিল্প প্রকল্প নিয়েই মূলত আলোচনা হতে পারে। আদানি গোষ্ঠীর যে একাধিক প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলির অগ্রগতি নিয়েও কথা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি নতুন করে কোনও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে শিল্পমহলের।
আম্বানি পরিবারের পর এবার আদানি
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই মুম্বইয়ে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে তাঁর ছবিও প্রকাশ্যে আসে। আম্বানি পরিবারকে কালীঘাটের মা কালীর মূর্তির একটি প্রতিরূপও উপহার দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তার পরেই এবার সেই কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে এলেন গৌতম আদানি। ফলে শিল্পপতিদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের যোগাযোগ এবং বাংলায় নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। এখন নজর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আদানির বৈঠকের দিকে—কোন শিল্প প্রকল্প কতটা এগোয় এবং নতুন কোনও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা হয় কি না, সেটাই দেখার।












