টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যার কবলে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক। বাড়ি, দোকান, রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরজুড়ে বিপর্যয় ঘোষণা করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪,৯০০ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫২ হাজার পরিবার। কোথাও হাঁটুসমান জল পেরিয়ে যাতায়াত করছেন বাসিন্দারা, আবার কোথাও বাড়ির ভিতর জমে থাকা জল বের করে ঘর গোছানোর চেষ্টা চলছে।
ব্যাঙ্কক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (বিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে রবিবারের মধ্যে শহরের কয়েকটি এলাকায় ৩৩০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডে বর্ষার মরসুম হলেও এবারের পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই খারাপ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Bangkok Flood Situation: ফিরল ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি
ব্যাঙ্ককের প্রেমপ্রাচাকর্ন খালের ধারে থাকেন ৪৪ বছরের অফিসকর্মী কোসিন নিলসেট। তাঁর কথায়, প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে তাঁদের বাড়ি জলের তলায় ছিল। এমনকি ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার সময়ের থেকেও এবারের জলস্তর বেশি। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বন্যায় ৫০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
জল বাড়তে দেখে আগেভাগেই বাড়ির জিনিসপত্র উঁচু জায়গায় সরিয়ে রেখেছিলেন কোসিন ও তাঁর পরিবার। তবুও বাড়ির একতলা পুরোপুরি ভিজে গিয়েছে। রবিবার সকালে ঝাড়ু দিয়ে ঘরের জল বের করার চেষ্টা করেন তিনি। অন্তত পানীয় জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন কোসিন।
অন্যদিকে, ব্যাঙ্ককের পূর্ব দিকে বেশ কিছু রাস্তায় হাঁটুসমান জল জমে রয়েছে। প্লাস্টিকের পাত্রে নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে জল পেরিয়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা।
শ্রীরামপুরের পর বেলেঘাটা, পরপর দু’দিন কুণালের গাড়িতে হামলা
স্কুলে আশ্রয় হাজার মানুষের, বন্ধ কয়েকশো স্কুল
শনিবার রাতে খে হা রমখ্লাও এলাকার একটি স্কুলে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ব্যাঙ্ককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ত। সেখানে প্রায় ১,০০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ বেঞ্চে, কেউ আবার শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে কম্বল পেতে রাত কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সোমবার শহরের কয়েকশো স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
নিজের বাড়িতে আটকে পড়া ৫৬ বছরের থিদারাত সিলসুওয়ান জানিয়েছেন, দু’দিন ধরে টেবিলের উপর ঘুমোচ্ছেন তিনি। ফ্রিজ ও ওয়াশিং মেশিনের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও জলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
রবিবারও ব্যাঙ্কক ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সোমবার থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। খালগুলিতে জলস্তর এখনও বেশি থাকায় দ্রুত জল নামানোর চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। (Bangkok Flood Situation)
এদিকে, বন্যার আশঙ্কায় দোকানগুলিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার ভিড় বাড়াছে। তবে আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা না করার আবেদন জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। বিপর্যয়ের সুযোগে পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করাকে অপরাধ বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
তবে যেভাবে বিশ্ব উষ্ণায়নের পরিমাণ বাড়ছে সেভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দ্রুত আবহাওয়ার পরিবর্তন ও ভয়াবহ বন্যার মতো ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।













1 thought on “টানা বৃষ্টিতে জলের তলায় ব্যাঙ্কক, ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ”
Comments are closed.