শাহী মসজিদের একটি অংশ ভাঙা ঘিরে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হলো মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে। রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে মসজিদের একটি অংশ ভাঙার প্রস্তাব ঘিরে সোমবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইট-পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। পরিস্থিতি পুলিশের হাতের বাইরে চলে যেতেই ঘটনাস্থলে RAF নামানো হয় (ujjain shahi masjid demolition)।
ujjain shahi masjid demolition: কেন এই বিক্ষোভ?
সিমহস্থ মেলাকে সামনে রেখে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে এই কাজ করছে প্রশাসন। ফলে তীর্থযাত্রীদের সমাগমের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন রাস্তা প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পড়ছে শাহী মসজিদের একটি অংশ। এই মসজিদের একটি অংশ রাস্তার উপরে রয়েছে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য মোট ২৭২টি কাঠামোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। উজ্জয়িন পুরসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সিমহস্থের সময় শহরে বিপুল ভিড় সামলাতে যান চলাচল ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন (ujjain shahi masjid demolition)।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রবিবার থেকে বহু মানুষ এই মসজিদ চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। জানা গেছে, ভোর ৪টে থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ সেখানেই অবস্থান করেন। এরপরই পরিস্থিতির উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সোমবার সকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং এলাকাটি ঘিরে ফেলে। বিক্ষোভকারীরা পাল্টা পুলিশের উপর ইট ছোঁড়ে বলে অভিযোগ। উজ্জয়িনের পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা জানান, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মসজিদে কাজ চলছে”। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। ঘটনাস্থলে RAF-সহ নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
বিজেপিকে কটাক্ষ কংগ্রেসের
রাস্তা প্রশস্তের জন্য মসজিদের একটি অংশ ভাঙার সিদ্ধান্তে সে রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরোধিতা করেন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি। তিনি রাজ্য সরকারকে জনগণের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাস্তা চওড়া করার অজুহাতে উজ্জয়িনের শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলার প্রশাসনিক পদক্ষেপে আরও কিছুটা সংবেদনশীলতা থাকা উচিত ছিল। উন্নয়নের নামে কেবল রাস্তা চওড়া করার জন্য ৬০০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যকে ভেঙে ফেলা চরম বিদ্বেষেরই বহিঃপ্রকাশ। বিষয়টি যখন আদালতে বিচারাধীন, তখন বারবার মসজিদ এলাকা ঘিরে ফেলে প্রশাসন ঠিক কী বার্তা দিতে চাইছে? উজ্জয়িনের হাজার হাজার তরুণ এই ইস্যুতে ক্রমাগত সরব হয়ে উঠছেন। উজ্জয়িন প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন জনগণের আবেগকে সম্মান জানান এবং রাস্তা চওড়া করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি অন্য পাশ থেকে অধিগ্রহণ করুন।”









1 thought on “মসজিদের অংশ ভাঙা ঘিরে রণক্ষেত্র উজ্জয়িন, ইটবৃষ্টি, পুলিশের কাঁদানে গ্যাস-লাঠিচার্জ”
Comments are closed.