অনাবৃষ্টিতে অন্ধ্রপ্রদেশে ২৮টি জেলার মধ্যে ২১টি জেলাই খরার কবলে। এমনটাই ঘোষণা করেছেন, সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নায়ডু। এবছর খরিফ মরসুমের জন্য ১ অক্টোবর জারি করা সরকারি নির্দেশে রাজ্যের মোট ৬৮৮ টি মণ্ডলের মধ্যে ৩৮৮টি খরার আওতাভুক্ত। এর মধ্যে ২৮৩ টি মণ্ডলকে ‘তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ এবং ১০৫ টিকে ‘মাঝারি ক্ষতিগ্রস্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে চন্দ্রবাবু নায়ডুর সরকার (andhra pradesh)।
andhra pradesh: কী কারণে খরা পরিস্থিতি?
এল নিনোর কারণে অগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টি কম হওয়ায় এমন পরিস্থিতি, এমনটাই জানিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ। ইতিমধ্যেই এই খরার প্রতিকার করতে মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নায়ডু ওয়াইএসআর কডপা জেলায় একটি জলপ্রকল্প ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, গোদাবরী ও কাবেরী নদী ব্যবস্থাকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত করার মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিকে খরা-মুক্ত করা সম্ভব (andhra pradesh)।
‘জল জীবন প্রকল্প ২.০’
ওই রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী কুরাসলা কান্নাবাবু এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির (ওয়াইএসআরসিপি) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গাদিকোটা শ্রীকান্ত রেড্ডি জানিয়েছেন, রায়লসীমা অঞ্চলটি বৃষ্টিপাতের ঘাটতির সবচেয়ে বেশি। খরা-কবলিত হিসেবে ঘোষিত ৩৮৮ টি মণ্ডলের মধ্যে ১৮৬ টিই এই অঞ্চলে অবস্থিত। তাঁরা আরও জানান, অগস্ট মাসের মধ্যেই প্রায় ৭ লক্ষ খননকারী কূপের জল শুকিয়ে গিয়েছিল। আম ও লেবুজাতীয় ফলের বাগানগুলি শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল এবং কৃষকরা তাঁদের বাগান বাঁচাতে এই জলের ওপর নির্ভর ছিলেন। রাজ্যে খরা-সদৃশ্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী‘জল জীবন মিশন ২.০ ’ জল প্রকল্প ঘোষণা করেছেন।
৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এক উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে কমিটি সুপারিশ করেছে, ২০২৬ সালের খরিফ মরসুমের খরা ঘোষণার জন্য নির্ধারিত ৩১ অক্টোবরের সময়সীমার জন্য অপেক্ষা না করে রাজ্যের ২৬টি জেলার মধ্যে ২১টি জেলা খরা প্রবণ ঘোষণা করা হোক। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ২১টি জেলা হলো—শ্রীকাকুলাম, বিজয়নগরম, বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লী, কাকিনাড়া, পূর্ব গোদাবরী, এলুরু, কৃষ্ণা, এনটিআর জেলা, গুন্টুর, বাপাতলা, পালনাডু, প্রকাশম, মার্কাপুরম, কুর্নুল, নন্দ্যাল, অনন্তপুরমু, শ্রী সত্য সাই, ওয়াইএসআর কড়াপা, অন্নময়্যা এবং চিত্তুর।
বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের জুন-অগস্ট মাসে বৃষ্টিপাতের ৫৩.৪% ঘাটতি এবং ‘এল নিনো’-র পরিস্থিতির কারণে এবং জুন থেকে অগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে খরার প্রাসঙ্গিক সূচকগুলি বিবেচনা করে— চলতি বছরে খরিফ মরসুমের জন্য খরা ঘোষণার করা হচ্ছে। ১ জুন থেকে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ৪২৪.৩ মিমি-র বিপরীতে গড়ে ১৯৭.৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।”











1 thought on “অন্ধ্রপ্রদেশে ২৮টি জেলার মধ্যে ২১ জেলা খরার কবলে, কিন্তু কেন?”
Comments are closed.