উৎসবের আলো নিমেষে ঢেকে গেল আতঙ্কের অন্ধকারে। মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার অন্যতম শীর্ষ পুজো চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে ঘটে গেল মারাত্মক বিপর্যয়। শনিবার সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে হাজার হাজার দর্শনার্থীর অতিরিক্ত চাপে সৃষ্টি হলো পদপিষ্ট হওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি (chorbagan sarbojonin)। মণ্ডপের সরু বৃত্তাকার করিডোর ও প্রস্থানদ্বারের মুখে হুড়োহুড়িতে বহু মানুষ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় একের পর এক দর্শনার্থীকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে গিরিশ পার্ক থানার পুলিশ মণ্ডপটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও সিল করে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ। সপ্তমীর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর কলকাতার রাজপথে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছিল। ঠিক সেই সময়ই কলকাতা জুড়ে নামে ঝেঁপে বৃষ্টি। রাস্তায় শুরু হয় তীব্র যানজট। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে একসাথে মণ্ডপের ভেতরে ঢোকার জন্য তীব্র ঠেলাঠেলি শুরু করেন।
চলতি ২০২৬ সালে চোরবাগানের থিম ছিল ‘অরব’ বা ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’। এই বিশেষ শিল্পভাবনার জন্য মণ্ডপের অভ্যন্তরে একটি ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরার বৃত্তাকার ‘এলিভেটেড করিডোর’ তৈরি করা হয়েছিল, যা দিয়ে ঘুরে প্রতিমা দেখে দর্শনার্থীদের বের হওয়ার কথা ছিল। বৃষ্টি শুরু হতেই ব্যারিকেড ভেঙে সেই সংকীর্ণ করিডোরে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপ পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠেলাঠেলির মুখে অনেকে পা পিছলে পড়ে যান এবং তাদের ওপর দিয়েই পেছনের ভিড় এগোতে থাকে। মুহূর্তে তৈরি হয় চরম পদপিষ্টের আবহ। একাংশের অভিযোগ, প্রাথমিক মুহূর্তে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায়।
খবর পেয়েই তৎপর হয় লালবাজার। কলকাতা পুলিশের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমের নির্দেশে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় গিরিশ পার্ক থানার পুলিশ, দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ (DMG)। দ্রুততার সাথে মণ্ডপের আলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বেরনোর সমস্ত পথ উন্মুক্ত করে এলাকা খালি করার কাজ শুরু হয়।
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন দর্শনার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ১১ জন গুরুতর আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। হাসপাতালের একটি সূত্র হতাহতের সংখ্যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও সরকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সরাসরি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে আহতদের চিকিৎসার তদারকি করেন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে ক্লাবের সমস্ত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে থানায় ডেকে পুরো ঘটনার জবাবদিহি চাইতে হবে। হাসপাতালে পৌঁছান কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি বিশেষ টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর—১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ চালু করা হয়েছে।
পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, “কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল তা স্পষ্ট নয়। আমাদের মূল কাজ ছিল আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।” উল্লেখ্য, এই পুজো কমিটির চেয়ারম্যান জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিজয় ওঝা এবং কমিটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তমোঘ্ন ঘোষ ও দেবদীপ অধিকারী। আনন্দোৎসবের আবহে এমন অনভিপ্রেত দুর্ঘটনায় এখন গোটা শহরজুড়ে শোক ও উদ্বেগের ছায়া(chorbagan sarbojonin)
সপ্তমীর রাতে চোরবাগানে পদপিষ্টের পরিস্থিতি, মৃত বহু











