রেজিনগর, নন্দীগ্রামে ভোটে কারচুপি, প্রশাসনের ভূমিকা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই—একাধিক ইস্যুতে সরব কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর অভিযোগ, ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। এটি মানুষের প্রকৃত রায় নয়। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের ভোটদানের অধিকার, হুমায়ুন কবীরের ভূমিকা এবং বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
কুণালের দাবি, সংখ্যালঘুরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, একবার সমীক্ষা করলেই প্রকৃত পরিস্থিতি সামনে আসবে। তাঁর অভিযোগ, ভোটে ছাপ্পা হয়েছে এবং বিরোধীদের বাধা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ দিয়ে বিরোধী পক্ষের লোকজনকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কুণাল বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষও কেন্দ্রের সরকারের উপর বিরক্ত। কয়েকটি বুথে ভোটের সময় কালি লাগানো নিয়ে আপত্তি উঠেছিল বলেও জানান তিনি। তাঁর প্রশ্ন, যখন প্রকৃত ভোটই হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে, তখন রক্তপাতের প্রসঙ্গ আসছে কেন?
‘গুন্ডারাজ চলছে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না’
পুরসভা এলাকার সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়েও সরব হন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, গুন্ডারাজ চললেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। হুমায়ুন কবীরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক জমি তৈরি করতে মন্দির-মসজিদের মতো বিষয়কে ব্যবহার করছে। হুমায়ুনের কিছু দাবি দল মেনে নিলে বিভাজন এড়ানো যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাতছাড়া রেজিনগর, ভোট লুটের অভিযোগ তুলে দুবাই পাড়ি দেবেন হুমায়ুন?
তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, মমতাই ভরসা
বিভিন্ন ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল (Kunal Ghosh)। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ ও সিবিআই তদন্ত করলেও এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। নারায়ণস্বরূপ নিগমের পদে থাকা এবং কয়েকটি ঘটনার তদন্ত নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জলাভূমি ভরাট করে নির্মাণের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানান, বিধায়ক থাকাকালীন তিনি সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, দল না দেখে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
এ ছাড়া সৌরভের ভোট চুরির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাককে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, সেই আন্দোলন ঘিরে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাঁর দাবি, বাংলায় বিজেপিকে মোকাবিলা করার ক্ষমতা একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই রয়েছে।









