বিজয়া দশমীতে মিষ্টিমুখের রীতি রয়েছে বাঙালির ঘরে ঘরে। তবে এ বার জলপাইগুড়ির মিষ্টির বাজারে চোখে পড়ছে অন্য ছবি। দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও আগের মতো দেখা মিলছে না রংবেরঙের মিষ্টির। পুজোর মরশুমে ফুড সেফটি দফতর ও প্রশাসনের লাগাতার অভিযানের জেরেই মিষ্টির দোকানগুলিতে এই পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে। (Jalpaiguri Sweets)
মিষ্টির দোকানে ক্রেতাদের ভিড়
বিজয়ার সকাল থেকেই জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে ভিড় জমিয়েছেন ক্রেতারা। শহরের পরিচিত এলএমবি মিষ্টান্ন ভাণ্ডার থেকে শুরু করে নেতাজিপাড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন দোকানগুলিতেও মিষ্টি কেনার ধুম পড়েছে। মিহিদানা, সীতাভোগ, ছানার পোলাও, রসগোল্লা, পান্তুয়া ও ল্যাংচার মতো মিষ্টি কিনছেন অনেকে। (Jalpaiguri Sweets) এক মিষ্টি ব্যবসায়ী জানান, এ বারও তাঁদের দোকানে ভালো সাড়া মিলছে। ছানার পোলাও, সীতাভোগ ও মিহিদানার পাশাপাশি রসগোল্লা, পান্তুয়া এবং ল্যাংচার চাহিদাও রয়েছে। ঘি দিয়ে তৈরি পান্তুয়া ও ল্যাংচাও ক্রেতাদের পছন্দ হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিজয়ার সঙ্গে টিকা উৎসব
শুধু বাঙালির বিজয়া দশমী নয়, নেপালি সম্প্রদায়ের টিকা উৎসবেও মিষ্টির চাহিদা রয়েছে। এই উৎসবে বড়দের আশীর্বাদ নেওয়ার রীতি রয়েছে। প্রণাম করার পর কপালে চালের ফোঁটা দিয়ে টিকা পরানো হয়। দশমী থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব তিন থেকে চার দিন ধরে চলে। পূজা ছেত্রী নামে এক মহিলা জানান, বিজয়া ও টিকা—দুই উৎসবই একসঙ্গে চলছে। তাই সকালেই মিষ্টি কিনতে এসেছেন তাঁরা। তাঁর বাপের বাড়ি জলপাইগুড়িতে। উৎসব উপলক্ষে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং বড়দের আশীর্বাদ নেওয়ার আনন্দও রয়েছে। (Jalpaiguri Sweets)
দূরদূরান্ত থেকেও আসছেন ক্রেতারা
জলপাইগুড়ির মিষ্টির টানে দূরদূরান্ত থেকেও আসছেন মানুষ। বীরপাড়া থেকে পরিবার নিয়ে অনেকে মিষ্টি কিনতে এসেছেন। এমনকি অসম থেকে বেনারস যাওয়ার পথেও জলপাইগুড়ির মিষ্টির স্বাদ নিতে দোকানে হাজির হয়েছেন পর্যটকেরা। মিষ্টি পছন্দ হওয়ায় বাড়ির জন্যও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে বিজয়ার দিনে জমজমাট জলপাইগুড়ির মিষ্টির বাজার। তবে ক্রেতাদের ভিড়ের মধ্যেও এ বার বিশেষভাবে নজর কাড়ছে রংবেরঙের মিষ্টির অনুপস্থিতি। প্রশাসনের অভিযানের পর মিষ্টি তৈরিতে রং ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সতর্কতা বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। (Jalpaiguri Sweets)









1 thought on “অমিল রঙিন মিষ্টি, বিজয়ার বাজারে এবার অন্য ছবি”
Comments are closed.