গত ১৭ অক্টোবর সপ্তমীর রাতে চোরবাগান পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের পদপিষ্ট হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এবার গ্রেফতার করা হলো পুজো কমিটির সহ-সভাপতি সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে। বৃহস্পতিবার ভোরে নদিয়ার কালীগঞ্জ থানার অন্তর্গত জুরানপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে গিরিশ পার্ক থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই সঞ্জীব রাহা ওই এলাকায় এক আত্মীয়ার বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন। মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করেই তাঁর খোঁজ পান তদন্তকারীরা। এরপরই তাঁকে আটক করে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। (Chorbagan Incident)
চোরবাগান পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই সঞ্জীব রাহার নাম উঠে আসে। তিনি চোরবাগান পুজো কমিটির সহ-সভাপতি বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, পুজো মণ্ডপে মাইকে ঘোষণার দায়িত্বেও তিনি ছিলেন বলে সূত্রের খবর। ফলে, ঘটনার সময় মণ্ডপে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং সেই সময় ঠিক কী ধরনের ঘোষণা করা হয়েছিল, তা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
চোরবাগান কাণ্ডে কমিটির কর্তাদের গ্রেফতারির দাবি কুণালের, নিশানায় বিজেপি ও পুলিশ
চোরবাগান পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনাটি ঠিক কী কারণে ঘটেছিল তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুধুই কি অব্যবস্থা নাকি মাইকে ঘোষণাতে ছিল কিছু গলদ? ইতিমধ্যেই অনেক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন শুধু বৃষ্টি বা অতিরিক্ত ভিড় নয়, মণ্ডপ ভেঙে যাওয়ার ভুল ঘোষণা করাতেই নাকি দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি লেগে যায়, আর তাতেই ঘটে দুর্ঘটনা। সেই বিষয়টি আজও সত্যি কি না সেটি খতিয়ে দেখতেই কে বা কারা মণ্ডপের ঘোষণার দায়িত্বে ছিল তাও খতিয়ে দেখতে চাইছে তদন্তকারীরা। এই ঘটনার সঙ্গে সন্দীপ রাহা কোনওভাবে যুক্ত কি না এখন সেটাই দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা। (Chorbagan Incident)
সঞ্জীব রাহার গ্রেফতারির পর চোরবাগান পদপিষ্ট কাণ্ডের তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। ঘটনার পিছনে কী কারণ ছিল, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং এই ঘটনায় আরও কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। পুলিশের তদন্তে পরবর্তী সময়ে আরও কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার।









1 thought on “মণ্ডপ ভাঙার ঘোষণা করেছিলেন, চোরবাগান কাণ্ডে গ্রেফতার পুজো কমিটির সহ-সভাপতি”
Comments are closed.