রাজ্য ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা আইএফএ-তে নির্বাচন ঘিরে তৎপরতা শুরু হয়ে গেল। আগামী ১৪ নভেম্বর সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভার দিনই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার কলকাতার সুবর্ণ বণিক সভাঘরে বিশেষ সাধারণ সভায় নতুন সংবিধান গ্রহণের পাশাপাশি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়। আর এই নির্বাচনে শুধু তারিখের বদল নয়, বদল আসছে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি থেকে শুরু করে কমিটি গঠনের নিয়মেও। ফলে আইএফএ-র প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন হতে চলেছে।
এতদিন আইএফএ-র প্রশাসনে সচিবের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কেন্দ্রীয় ক্রীড়ানীতি অনুযায়ী নতুন সংবিধানে সেই কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এবার থেকে বেতনভুক সচিব থাকলেও সংস্থার প্রধান মুখ হিসেবে সভাপতির গুরুত্ব বাড়তে চলেছে। একই সঙ্গে ভোট দেওয়ার অধিকারও আর শুধু গভর্নিং বডির সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। আইএফএ অনুমোদিত ক্লাবগুলির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, রেফারি এবং কোচদের প্রতিনিধিরাও ভোট দিতে পারবেন।
IFA Election: ৪ নভেম্বরের সময়সীমা, নির্বাচন নিয়ে আইএফএ-র বাড়তি প্রস্তুতি
অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন বা এআইএফএফের নির্দেশ অনুযায়ী, ৪ নভেম্বরের মধ্যে রাজ্য ফুটবল সংস্থাগুলিকে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ানীতি মেনে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। তবে উৎসবের মরসুম এবং নতুন সংবিধান কার্যকর করার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলে ফেডারেশনকে ইমেল করেছে আইএফএ। সংস্থার তরফে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করার কথা জানানো হয়েছে।
নতুন সংবিধান কার্যকর করার জন্য শনিবার বিশেষ সাধারণ সভা ডাকেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত। দীর্ঘ আলোচনার পর ১৪ নভেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচনের দিন ধার্য হয়। সভার পর অনির্বাণ দত্ত জানান, নতুন সংবিধান গ্রহণের পাশাপাশি বার্ষিক সাধারণ সভা এবং নির্বাচন আয়োজনের অনুমতিও নেওয়া হয়েছে।
তিলকের ঝোড়ো ইনিংসে অবিশ্বাস্য জয় ভারতের, শেষ মুহূর্তে তরি ডুবলো নিউ জিল্যান্ডের
আইএফএ-র ঘোষণা অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বিজ্ঞপ্তি নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে। ৩১ অক্টোবর থেকে মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হবে, যা চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। ৭ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই করা হবে। ৯ নভেম্বর বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশিত হবে। ১০ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১১ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ১৪ নভেম্বর হবে নির্বাচন।
৩০৯ ক্লাবের প্রতিনিধিরা ভোট দেবেন, নজরে ময়দানের রাজনৈতিক সমীকরণ
আইএফএ নির্বাচনে এবার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ভোটাধিকার ঘিরে। আগে শুধুমাত্র গভর্নিং বডির সদস্যরাই ভোট দিতে পারতেন। কিন্তু নতুন সংবিধান অনুযায়ী, আইএফএ অনুমোদিত ৩০৯টি ক্লাবের প্রতিনিধিরা ভোট দিতে পারবেন। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, রেফারি এবং কোচদের প্রতিনিধিরাও। ফলে নির্বাচনে ভোটারদের পরিধি বাড়ছে। এই পরিবর্তন নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
এদিকে আইএফএ-র নির্বাচন ঘিরে ময়দানের রাজনৈতিক তৎপরতাও বাড়তে পারে। রাজ্যে পালাবদলের পর সভাপতির পদ ছেড়েছিলেন অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকে চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এবার নতুন সভাপতি কে হবেন, কোন পক্ষ কাদের নিয়ে প্যানেল তৈরি করবে, তা নিয়ে ফুটবল মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শুধু আইএফএ-র প্রশাসনিক পরিবর্তনই নয়, এই নির্বাচনের দিকে নজর থাকবে সর্বভারতীয় ফুটবল মহলেরও। কারণ ডিসেম্বরে এআইএফএফের নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনে বর্তমান সভাপতি কল্যাণ চৌবে নিজের পদ ধরে রাখার লড়াইয়ে রাজ্য ফুটবল সংস্থাগুলির সমর্থনকে গুরুত্ব দিতে পারেন। বাংলার প্রতিনিধিরা কোন পক্ষের পাশে থাকেন, তার প্রভাবও সর্বভারতীয় নির্বাচনের সমীকরণে পড়তে পারে।
ফলে আইএফএ-র ১৪ নভেম্বরের নির্বাচন শুধু রাজ্য ফুটবলের নতুন কমিটি গঠনের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। নতুন সংবিধানে ক্ষমতার কাঠামো বদল, ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এআইএফএফের আসন্ন নির্বাচন—সব মিলিয়ে বাংলার ফুটবল প্রশাসনে কোন নতুন সমীকরণ তৈরি হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।











