আগামী বছর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালগুলিতে দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটির প্রচলিত রীতি বন্ধ হতে চলেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলির অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। (Government Hospital Puja Holiday)
সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত বিশেষ ডিউটি রোস্টার
স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতাল জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। তাই অন্যান্য সরকারি দফতরের মতো দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা সেখানে চলতে পারে না। তাঁর দাবি, ১৯৪৭ সাল থেকে ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত হাসপাতালগুলিতে কার্যত ছুটির পরিবেশ চলে আসছে। আগামী বছর থেকে সেই প্রথা বন্ধ হবে। (Government Hospital Puja Holiday)
তবে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী—এই চার দিন বিশেষ ডিউটি রোস্টার থাকবে। এই দিনগুলিতে সাফাইকর্মী ও অন্যান্য নন-মেডিক্যাল কর্মীদের প্রায় ৫০ শতাংশকে কাজে রাখা হবে। চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য আলাদা কোনও পুজোর রোস্টার থাকবে না। হাসপাতালের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের ডিউটি নির্ধারণ করা হবে। চলতি বছরেও ছুটিতে থাকা বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। (Government Hospital Puja Holiday)
হাসপাতাল পরিষ্কারে পুরসভার সঙ্গে সমন্বয়
বৈঠকে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও আলোচনা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালের ভিতরের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু হাসপাতাল চত্বরের রাস্তাঘাট ও নিকাশি ব্যবস্থার দায়িত্ব পুরসভা বা স্থানীয় প্রশাসনের। তাই দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। SSKM, মেডিক্যাল কলেজ, NRS, RG Kar, বর্ধমান, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের মতো বেশি রোগীর চাপ থাকা হাসপাতালগুলিতে দিনে দু’বার সাফাইয়ের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।(Government Hospital Puja Holiday)
ডেঙ্গিতে ১৫ জনের মৃত্যু, সক্রিয় রোগী ২০৭
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গিতে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২০৭। তাঁদের মধ্যে ছ’জন আইসিইউতে রয়েছেন। ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার ৫০০। (Government Hospital Puja Holiday) গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ হাজার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার কম। হাওড়ার বাঁকড়ায় ৬২৩ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হওয়ার তথ্যকে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক নয় বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ওই সংখ্যাটি মোট আক্রান্তের হিসাব হতে পারে। মুর্শিদাবাদে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে হাওড়া, কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। বাড়ির আশপাশে জমা জল পরিষ্কার রাখা, মশারি ব্যবহার এবং মশা প্রতিরোধক ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছেন তিনি। (Government Hospital Puja Holiday)
চিকিৎসকদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ
মেডিক্যাল কলেজে ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড ও সিরিঞ্জের ঘাটতি নিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের অভিযোগও খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রাথমিক রিপোর্টে প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত থাকার কথা জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো হবে। এ ছাড়া, কোনও চিকিৎসক অন-ডিউটি থাকা অবস্থায় দায়িত্ব ছেড়ে বাইরে গিয়েছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।” তবে এখনও পর্যন্ত কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানাননি মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। (Government Hospital Puja Holiday)












