দীর্ঘ অর্থিক টানাপোড়েনের পর এবার খানিক আশার আলো মহামেডান শিবিরে। ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগ (IFL)-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচে নামার আগেই ক্লাবের পাশে দাঁড়াল লাক্সারি লিভিং ফার্নিচার সংস্থা। মহামেডান স্পোর্টিংয়ের কো-স্পনসর হিসেবে যুক্ত হচ্ছে এই সংস্থা। আর্থিক সংকট, বকেয়া বেতন আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এরই মধ্যে নতুন স্পনসর পাওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছে কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই ফুটবল ক্লাব।
Mohammedan Sporting Sponser: কো-স্পনসর লাক্সারি লিভিং, মহামেডানকে ISL-এ ফেরানোর লক্ষ্য
গত মরশুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL)-এ খেলেছিল মহামেডান স্পোর্টিং। কিন্তু এ বার অবনমন হয়ে আইএফএল-এ খেলতে হচ্ছে তাদের। কলকাতার তিন প্রধানের অন্যতম এই ক্লাবের এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে পারেননি সমর্থকদের অনেকেই। তার উপর ফুটবলার থেকে শুরু করে কোচ, একাধিকবার বেতন না পাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। বকেয়া বেতন এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার জেরে দলের অনুশীলনও ব্যাহত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে লাক্সারি লিভিংয়ের স্পনসর হিসেবে যুক্ত হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে কলকাতা লিগে খেলা খিদিরপুর স্পোর্টিং ক্লাবকেও স্পনসর করেছিল এই ফার্নিচার সংস্থা। এবার মহামেডান স্পোর্টিং এর পাশে দাঁড়ালো তারা।
৩৫ বলে সেঞ্চুরির ধামাকা, সবাইকে পিছনে ফেলে ICC-র সিংহাসন পুনরুদ্ধার অভিষেকের
এবিষয়ে লাক্সারি লিভিংয়ের কর্ণধার সম্রাট রায় হিন্দুস্তান নিউজ পয়েন্টকে জানিয়েছেন, কলকাতার তিন প্রধানের অন্যতম মহামেডান স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে নিজের সংস্থাকে যুক্ত করতে পেরে তিনি গর্বিত। আপাতত আইএফএল-এর জন্য মহামেডানের কো-স্পনসর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁরা। যদিও স্পনসরশিপের আর্থিক অঙ্ক এখনও চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে সম্রাট জানান তাঁর লক্ষ্য, মহামেডানকে আবার ISL-এ ফিরিয়ে আনার পথে সাহায্য করা।
হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিতর্ক, ঘুরে দাঁড়াবে ক্লাব?
মহামেডানের আর্থিক সমস্যা নিয়ে গত কয়েক মাসে কম জলঘোলা হয়নি। ক্লাবের আর্থিক সংকট মেটাতে ২৫ কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি, তাঁর সই করা একাধিক চেক বাউন্স করার অভিযোগও সামনে আসে। সব মিলিয়ে ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল গভীর অনিশ্চয়তা। (Mohammedan Sporting Sponser)
এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীরকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে নতুন সভাপতি করা হয় গজল জাফরকে। তবে নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও আর্থিক সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বেতন বকেয়া থাকায় ফুটবলারদের অনুশীলনেও প্রভাব পড়েছিল।
এর মধ্যেই নতুন কো-স্পনসর পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাদা-কালো শিবিরে। তবে স্পনসরশিপের মাধ্যমে কতটা আর্থিক সমস্যা মিটবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত বকেয়া বেতন মেটানো, দলকে গুছিয়ে নেওয়া এবং মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করার দিকেই নজর মহামেডানের। পাশাপাশি, আবার ISL-এ ফেরার যে স্বপ্ন দেখছে ক্লাব, লাক্সারি লিভিংয়ের হাত ধরে সেই লক্ষ্যে কতটা এগোনো যায়, এখন সেটাই দেখার।












1 thought on “আর্থিক সংকটে মহামেডানের পাশে লাক্সারি লিভিং, ISL-এ ফেরার স্বপ্ন দেখছে সাদা-কালো শিবির”
Comments are closed.