ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে সনাতন ধর্ম গ্রহণ করলেন বিজেপি নেত্রী নাজিয়া ইলাহি খান (Nazia Ilahi Khan)। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর রামঘাটে পুজো-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর ধর্মান্তরের সেই মুহূর্তের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলেও তাঁকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
‘ঘর ওয়াপসি’ বলছেন নাজিয়া
নাজিয়া ইলাহি খানের (Nazia Ilahi Khan) দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিজেকে সনাতনী বলে পরিচয় দিয়ে আসছেন। এবার ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমে সেই পরিচয়কে আনুষ্ঠানিক রূপ দিলেন। উজ্জয়িনীর রামঘাটে নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে পুজো-অর্চনা করতে দেখা যায়। গাজিয়াবাদের লোনি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জরকে নিজের ‘পিতা’ বলে উল্লেখ করেছেন নাজিয়া। তাঁর বক্তব্য, বিধায়ক তাঁকে নিজের গোত্র দিয়েছেন এবং কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন।
জন্মসূত্রে মুসলিম নাজিয়া ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বরাবর বিতর্কিত মন্তব্যও করেছেন। তাঁর দাবি, নিজের পূর্বপুরুষদের শিকড় সনাতন ধর্মে রয়েছে। শুধু নিজের নয়, ভারতের সমস্ত মুসলিমের পূর্বপুরুষদের শিকড়ও সনাতনী বলে দাবি করেছেন তিনি। তাই ধর্ম পরিবর্তনকে তিনি ‘ঘর ওয়াপসি’ হিসেবেই দেখছেন। তবে তাঁর এই বক্তব্য ব্যক্তিগত দাবি, এর পক্ষে কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ তিনি এখানে তুলে ধরেননি।
বিজেপির সঙ্গে যোগ, আগেও একাধিক বিতর্কে
পেশায় আইনজীবী নাজিয়া (Nazia Ilahi Khan) একসময় বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার মহিলা শাখার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন নাজিয়া। তাঁর দাবি ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নিরাপত্তা নিয়েও প্রসঙ্গ ওঠে। নাজিয়ার বক্তব্যের ভিত্তিতে শুভেন্দুর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল বলে জানা যায়।
সরকারি কর্মীদের দীপাবলি উপহার, ৩% DA বাড়ালো কেন্দ্র
এর আগেও একাধিক ঘটনায় সংবাদ শিরোনামে এসেছেন তিনি। চলতি বছরের এপ্রিলে মুম্বইয়ের একটি লেন্সকার্ট শোরুমে কর্মীদের তিলক পরানো নিয়ে বিতর্কে জড়ান নাজিয়া। সংস্থার বিরুদ্ধে কর্মীদের তিলক পরায় নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ তুলে শোরুমে গিয়ে কর্মীদের কপালে তিলক পরিয়ে দেন তিনি। সেই সঙ্গে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানও দেন।
সব মিলিয়ে, ধর্মান্তরের ঘোষণা নাজিয়াকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। আর তাঁর এই ব্যক্তিগত ধর্মীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশিই রাজনৈতিক পরিচয় ও পূর্ববর্তী বিতর্কও তাই নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে।











