চেনা লাল স্ট্রবেরি এখন অতীত, এবার বাজার কাঁপাবে সাদা স্ট্রবেরি। এমনই অভিনব ফলের চাষ হচ্ছে শিলিগুড়িতে। এবার সাদা স্ট্রবেরি চাষ ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন আগ্রহ। বিদেশের বাজারে পরিচিত এই ফলের চাষ উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকায় কতটা সফল হতে পারে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে গবেষণা। আর এই উদ্যোগকে ঘিরেই আশার আলো দেখছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকরাও। সঠিক পরিবেশে এই ফল উৎপাদন সম্ভব হলে আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের কৃষিক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে নতুন সম্ভাবনা (white strawberry)।
white strawberry: আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা
এবার সেই লক্ষ্যেই শিলিগুড়ির পতিরাম জোতে কয়েকজন কৃষককে নিয়ে শুরু হয়েছে সাদা স্ট্রবেরির পরীক্ষামূলক চাষ। উদ্যোগ নিয়েছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের COFAM বিভাগ। মূলত এখানকার মাটি, জলবায়ু এবং তাপমাত্রার সঙ্গে এই বিদেশি ফল কতটা মানিয়ে নিতে পারে, সেটাই পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। গত বছর পুনেতে পরীক্ষামূলক চাষে ফল পাওয়ার পর এবার উত্তরবঙ্গেও এই চাষ কতটা সফল হয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত হলেও দেশের কৃষিক্ষেত্রে এখনও সাদা স্ট্রবেরির চাষ যথেষ্ট সীমিত (white strawberry)।
এই ফলের বাজার মূল্য কত?
এই ফলের বাজার মূল্য কত হতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহের কোনও সীমা। অনেকেই আগ্রহী এই ফলের দাম জানতে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আকার ও গুণমানের ভিত্তিতে একটি সাদা স্ট্রবেরির দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ফলে প্রতি কেজি ফলের দাম ১০০০ টাকা বা তারও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অল্প জমিতে এই ধরনের উচ্চমূল্যের ফল উৎপাদন করা গেলে কৃষকদের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। সাধারণ স্ট্রবেরির মতোই বেলে-দোআঁশ মাটিতে বেড তৈরি করে জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে চারা রোপণ করা সম্ভব। উপযুক্ত পরিবেশ বজায় থাকলে চারা লাগানোর ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ফল আসতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
আবহাওয়ার সঙ্গে রয়েছে চ্যালেঞ্জ
এই ফল চাষে রয়েছে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সমতলের গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা এই চাষের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। সাদা স্ট্রবেরির জন্য আনুমানিক ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুকূল বলে জানা যাচ্ছে। অথচ গরমের সময় শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় পারদ ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছে যায়। এই পরিস্থিতিতে গাছের বৃদ্ধি, ফুল আসা এবং ফলের গুণমান কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে পরীক্ষা চলছে। COFAM বিভাগের টেকনিক্যাল অফিসার অমরেন্দ্র পাণ্ডে জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় এই ফলের অভিযোজন ক্ষমতা যাচাই করার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
স্ট্রবেরি উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়
শুধু সাদা স্ট্রবেরি উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে এই ফলের চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও উত্তরবঙ্গকে সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। অমরেন্দ্র পান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, শিলিগুড়ির সমতলে ফল উৎপাদনের পাশাপাশি মংপু ও মিরিকের মতো অপেক্ষাকৃত শীতল এলাকায় ডটার প্ল্যান্ট বা নতুন চারা তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে এই ফলের চারা সহজে পাওয়া যায় না এবং প্ল্যান্টিং ম্যাটেরিয়ালের দামও তুলনামূলক বেশি। তাই স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন সম্ভব হলে কৃষকদের খরচ কমার পাশাপাশি অন্য রাজ্যে চারা সরবরাহের মাধ্যমে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে।











