তিনি বলিউডের বাদশাহ। টিভি পর্দার সাধারণ অভিনেতা থেকে বিশ্বখ্যাত সুপারস্টার হয়ে ওঠার যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী অভিনেতার তালিকায় প্রথম পাঁচের মধ্যেই রয়েছেন তিনি। তবে আপনি কি জানেন, এক সময়ে এই অভিনেতার পকেটে সিনেমার টিকিট কাটার মতো টাকাই থাকত না। তিনি বহুবার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁর ছেলেবেলার সেই স্মৃতি মনে করেছেন। খ্যাতির শিখরে পৌঁছনো এই মহাতারকার আজ জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তাঁর জীবনের ওঠা পড়ার সেই গল্প (shah rukh khan birthday)।
shah rukh khan birthday: সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম
সালটা ১৯৬৫, ২ নভেম্বর দিল্লিতে খুব সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শাহরুখ খান। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী মীর তাজ মহম্মদ খানের সন্তান। মা লতিফ ফাতিমা। দিল্লিতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। ‘জি জেস্ট’ (Zee Zest)-এর তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট কলম্বাস স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলা এবং বিভিন্ন বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সময় তিনি ‘সোর্ড অফ অনার’ (Sword of Honour) অর্জন করেন (shah rukh khan birthday)।
পরবর্তীতে তিনি হংসরাজ কলেজে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তবে অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল অটুট। কলেজ জীবনের শুরু থেকেই তিনি ‘দিল্লি থিয়েটার অ্যাকশন গ্রুপ’-এর সঙ্গে অভিনয়ে যুক্ত ছিলেন। ছেলেবেলায় দিলীপ কুমার ও অমিতাভ বচ্চনের মতো কিংবদন্তি অভিনেতাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। ধীরে ধীরে অভিনয়ের প্রতি একাগ্রতা বাড়ে তাঁর। ‘ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা’-তে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন।
শুরু অভিনেতার জীবনে সংগ্রাম
দিল্লির এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া শাহরুখ খান খুব অল্প বয়সেই বাবা-মাকে হারান। চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে তিনি দিল্লিতে অভিনয় শেখা শুরু করেন। ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি ছোট পর্দায় কাজ শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে ‘দিল দরিয়া’ (Dil Dariya) ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন জগতে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন শাহরুখ খান। তারপর ‘ফৌজি’ (Fauji) ধারাবাহিকে অভিমন্যু রাই এবং ‘সার্কাস’ (Circus) ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। টেলিভিশনের এই সাফল্যই তাঁর জন্য বলিউডের দরজা খুলে দেয়।
অভিনেতার বলিউডে প্রবেশ
১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক হয়। এই ছবিই তাঁকে নবাগত হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এনে দেয়। এরপর একে একে, ‘দিল আশনা হ্যায়’, ‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’ (Raju Ban Gaya Gentleman)-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। পরবর্তীতে সাধারণ নায়কের চরিত্রে আটকে না থেকে কেরিয়ারের শুরুতেই ‘ডর’ (Darr) এবং ‘বাজিগর’ (Baazigar)-এর মতো ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেন। আর এই ঝুঁকি তাঁর ক্যারিয়ারকে এক লাফে অনেক উপরে নিয়ে যায়।
‘কিং অফ রোম্যান্স’ হয়ে ওঠা
১৯৯৫ সালে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ চলচ্চিত্র মুক্তি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস বদলে দেয়। রাজ চরিত্রে তিনি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। এরপর ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কভি খুশি কভি গম’ এবং ‘দেবদাস’-এর মতো একের পর এক কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি নিজেকে বলিউডের ‘কিং খান’- হিসাবে তুলে ধরেন।
জনপ্রিয়তার পাশাপাশি কেরিয়ারে বিভিন্ন সময়ে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে শাহরুখ খানকেও। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে তাঁর অভিনীত কিছু চলচ্চিত্র প্রশংসা পেলেও বক্স অফিসে খুব একটা সফল হতে পারেনি। ‘ডুপ্লিকেট’, ‘অশোকা’, ‘ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি’ এবং ‘বাদশাহ’-এর মতো সিনেমাগুলিতে তাঁর নতুন ধরনের কাজের প্রচেষ্টা ফুটে উঠলেও, সেগুলি সেই সময়ে ব্যবসায়িক সাফল্য বয়ে আনতে পারেনি। এছাড়া, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করা তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘ড্রিমজ আনলিমিটেড’ (Dreamz Unlimited)-ও শুরুর দিকে ধারাবাহিকে সাফল্য পেতে হিমশিম খেতে হয়েছিল।
তবে, ২০২৩ সালে তিনি ‘পাঠান’ (Pathaan) এবং ‘জওয়ান’ (Jawan) ছবিতে অ্যাকশন হিরো হিসেবে রূপালি পর্দায় ফেরেন। পরপর দুটি সিনেমা ১০০০ কোটি টাকার ওপর ব্যবসা করে ভারতীয় বক্স অফিসের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেন। বার্ধক্য তাঁকে ছুঁলেও তিনি যে এখনও বলিউডের ‘বাদশাহ’, তা মনে করিয়ে দেন।













