হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই শক্তির আরাধনায় মাতবে গোটা এলাকা। তার আগে জোরকদমে চলছে মালদহের রতুয়া-২ ব্লকের আড়াইডাঙা অঞ্চলের গোবরজনা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কালীপুজোর প্রস্তুতি। পুজো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তৎপর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। সম্প্রতি পুজোর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় আসেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। প্রায় ৪০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই পুজো গোবরজনা কালীপুজো নামে পরিচিত। প্রতি বছর এই পুজোকে কেন্দ্র করে মালদহের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা, কলকাতা, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং নেপাল থেকেও ভক্তরা আসেন। সারা বছর ধরেই মায়ের মন্দিরে ভক্তদের আনাগোনা চলে। ভক্তদের বিশ্বাস, গোবরজনা কালীমাতা জাগ্রত। মায়ের কাছে মানত করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়। (Kali Puja Malda)
ডাকাতদের হাত ধরে পুজোর সূচনা?
স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, একসময় ডাকাতদের হাত ধরেই এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। কথিত আছে, ডাকাতরা ডাকাতির আগে ও পরে শক্তির আরাধনা করতে কালিন্দ্রী নদীর তীরে মা কালীর পুজো শুরু করেন। পরে এলাকার চৌধুরী পরিবার পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে পরিবারের সদস্য দীপক চৌধুরীরা এই পুজোর দেখভাল করেন। তবে পুজোর প্রাচীন ইতিহাসের অনেকটাই লোকমুখে প্রচলিত বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। (Kali Puja Malda)
পুজো ঘিরে প্রশাসনের নজরদারি
পুজোকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের আধিকারিকরা বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন এডিএম, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিএসপি এবং বিডিও-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁদের দেওয়া নির্দেশ মেনেই পুজোর আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন দীপক চৌধুরী। তাঁর আশা, প্রশাসনের সহযোগিতায় এ বারও শান্তিপূর্ণভাবে পুজো সম্পন্ন হবে। (Kali Puja Malda)
সম্প্রীতির নজির গোবরজনায়
এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। দীপক চৌধুরী জানান, হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে পুজোর কাজে সাহায্য করেন। সবার সহযোগিতাতেই পুজো সুন্দরভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়। পুজোর দিনগুলিতে কালিন্দ্রী নদীর তীরে বসে বিশাল মেলা। মন্দিরের বলির প্রথাও এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনে আরও একবার উৎসবের অপেক্ষায় গোবরজনা। (Kali Puja Malda)










