Ghanakanta Gogoi Encounter in Assam: গুয়াহাটিতে হোটেলের মধ্যে পাঁচজনকে গুলি করে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে এনকাউন্টার করল পুলিশ। অভিযোগ, বুধবার ভোরে অসমের শিবসাগর যাওয়ার পথে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে সে। সেই সময়ই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পুলিশ আধিকারিককে বাঁচাতে অন্য এক পুলিশকর্মী গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা ঘনকান্তকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এক পুলিশ আধিকারিকও আহত হয়েছেন।
কীভাবে ঘটল এনকাউন্টার?
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার ভোর ৩টে ১২ মিনিট নাগাদ গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে শিবসাগর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ঘনকান্তকে। অন্য একটি প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল শিবসাগর জেলা পুলিশ। গৌরীসাগর এলাকায় পৌঁছনোর পর ঘনকান্ত গাড়ি থামিয়ে শৌচকর্মে যাওয়ার কথা বলে। গাড়ি থেকে নামার পর তদন্তকারী আধিকারিকের সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সে। এরপরই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। শিবসাগরের পুলিশ সুপার পাপোরি চেতিয়া জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিককে বাঁচাতে অন্য এক পুলিশকর্মী গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ ঘনকান্তকে শিবসাগর সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত পুলিশ আধিকারিকও ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। (Ghanakanta Gogoi Encounter in Assam)
হোটেলের লিজ নিয়ে বিবাদের জেরে খুন?
গত ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির বোরা সার্ভিস এলাকার কাছে বিলাস ইন হোটেলের সামনে ছয়জনকে গুলি করার অভিযোগ ওঠে ঘনকান্তের বিরুদ্ধে। তাঁদের মধ্যে হোটেলের মালিক হেলেনা ভারালি (৫৮) সহ পাঁচজনের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই। ষষ্ঠ ব্যক্তি আহত হন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হোটেলের লিজ নিয়ে হেলেনার সঙ্গে ঘনকান্তের বিবাদ থেকেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত জানান, প্রায় এক বছর আগে হেলেনার কাছ থেকে হোটেলটি লিজ নিয়েছিল ঘনকান্ত। সেই সময় থেকেই দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদ চলছিল। ঘটনার দিনই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। (Ghanakanta Gogoi Encounter in Assam)
আদালতের নির্দেশের পরেও কীভাবে ঘটল ঘটনা?
এক সপ্তাহ পুলিশি হেফাজতে থাকার পর মঙ্গলবার গুয়াহাটির আদালত তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এর পরেই শিবসাগর পুলিশের একটি দল অন্য মামলায় তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য গ্রেফতার করে। এর আগে মৃতদের পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তের দ্রুত শাস্তির দাবি তুলেছিলেন। অন্যদিকে, নিরাপত্তার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল ঘনকান্ত। কামরূপ মেট্রো জেলা আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, সূর্যাস্তের পর তাকে জেল থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। পাশাপাশি পুলিশকে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
পাপোরি চেতিয়ার দাবি, পুলিশের দল যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করেছিল। কিন্তু অভিযুক্তের আচরণে পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে চরম পদক্ষেপ করতে হয়।পুলিশ আরও জানিয়েছে, শিবসাগরে গাড়ি কেনার জন্য প্রতারণা ও জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগেও অভিযুক্ত ছিল ঘনকান্ত। অন্যদিকে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হেলেনা ভারালি ও তাঁর পরিবার বরপেটার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় ২০ বছর আগে ব্যবসার সূত্রে তাঁরা গুয়াহাটিতে চলে আসেন। গত কয়েক বছর ধরে ঘনকান্তের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় ছিল। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। (Ghanakanta Gogoi Encounter in Assam)











