IPL ২০২৭-এর আগে বড়সড় দলবদলের পথে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও পাঞ্জাব কিংস। (Hardik Pandya) হার্দিক পান্ডিয়াকে ছেড়ে তাঁর পরিবর্তে ভারতীয় বাঁহাতি পেসার অর্শদীপ সিংকে দলে নিতে চলেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই। অর্থাৎ, একদিকে মুম্বইয়ের পেস আক্রমণে জসপ্রীত বুমরাহের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন অর্শদীপ, অন্যদিকে পাঞ্জাব কিংসে শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন দলের শক্তি বাড়াবেন হার্দিক। IPL ২০২৭-এর আগে এই সম্ভাব্য অদলবদল ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটমহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
Table of Contents
দলবদল চূড়ান্ত হওয়ার পথে
১৭ নভেম্বর IPL ২০২৭-এর জন্য খেলোয়াড় ধরে রাখার শেষ দিন। তার আগেই (Hardik Pandya) হার্দিক-অর্শদীপের এই ট্রেড নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, দুই ফ্র্যাঞ্চাইজিই IPL-এর কাছে আগ্রহপত্র জমা দিয়েছে। এবার সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের লিখিত সম্মতি এবং চূড়ান্ত আলোচনা বাকি। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে লিগ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে। সূত্র অনুযায়ী, হার্দিক ও মুম্বইয়ের মধ্যে ২০২৬ মরসুমের শেষ দিক থেকেই একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিকে হার্দিক নিজের দল ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানান।
বুমরাহ-অর্শদীপ জুটিতে নতুন শক্তি মুম্বইয়ের
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের এই সিদ্ধান্তের পিছনে বড় কারণ তাদের পেস আক্রমণের দুর্বলতা। IPL ২০২৬-এ ১৪ ম্যাচে মাত্র চারটি জিতে দশ দলের মধ্যে নবম স্থানে শেষ করেছিল মুম্বই। জসপ্রীত বুমরাহের পাশে একজন নির্ভরযোগ্য ভারতীয় পেসার খুঁজছিল তারা। সেই জায়গায় অর্শদীপ হতে পারেন বড় সংযোজন। ২০১৯ সালে পাঞ্জাবের হয়ে IPL অভিষেকের পর ৯৬ ম্যাচে ১১১টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাঁর ইকোনমি রেট ৯.১৮।
বাঁহাতি পেসার হিসেবে অর্শদীপের সুইং, পাওয়ারপ্লেতে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এবং ডেথ ওভারে ইয়র্কার করার দক্ষতা মুম্বইকে বাড়তি সুবিধা দেবে। অন্যদিকে বুমরাহ নতুন বলে এবং ইনিংসের শেষদিকে দু’ক্ষেত্রেই কার্যকর। ফলে বুমরাহ-অর্শদীপ জুটি প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ট্রেন্ট বোল্ট গত মরসুমে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন এবং প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
পাঞ্জাবে হার্দিক-শ্রেয়স জুটি, বাড়বে ভারসাম্য
অন্যদিকে পাঞ্জাব কিংসের কাছে (Hardik Pandya) হার্দিকের আগমন ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে খেলবেন এই অলরাউন্ডার। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব শ্রেয়সের হাতেই থাকছে বলে খবর। ফলে হার্দিকের উপর নেতৃত্বের চাপ থাকবে না। ব্যাটিং অর্ডারে মিডল অর্ডারে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি প্রয়োজনে ফিনিশারের ভূমিকা নিতে পারবেন তিনি। বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ওভার করতে পারেন। শ্রেয়সের ধারাবাহিক ব্যাটিং এবং হার্দিকের অলরাউন্ড দক্ষতা পাঞ্জাবের দলকে আরও ভারসাম্য দিতে পারে।
২০২৫ সালে শ্রেয়সের নেতৃত্বেই ফাইনালে উঠেছিল পাঞ্জাব। ২০২৬ সালে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে থেকে প্লে-অফে ওঠার সুযোগ হারায় তারা। এবার (Hardik Pandya) হার্দিককে নিয়ে নতুন করে শিরোপার লক্ষ্যে ঝাঁপাতে চাইবে ফ্র্যাঞ্চাইজি।
মুম্বইয়ে নেতৃত্বে ফিরতে পারেন রোহিত
(Hardik Pandya) হার্দিকের বিদায়ের পাশাপাশি মুম্বইয়ের নেতৃত্বেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪ সালে রোহিত শর্মার পরিবর্তে অধিনায়ক হয়েছিলেন হার্দিক। তাঁর নেতৃত্বে ৩৯ ম্যাচে মুম্বই জিতেছে ১৫টি, হেরেছে ২৪টি। এবার ২০২৭ মরসুমে রোহিতকে ফের অধিনায়ক হিসেবে দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি কাইরন পোলার্ড প্রধান কোচ, রবিন উথাপ্পা ব্যাটিং কোচ, মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান বোলিং কোচ এবং টি দিলীপ ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন।
১৭ নভেম্বর রিটেনশনের শেষ দিন। ১৬ ডিসেম্বর গোয়ায় বসবে IPL ২০২৭-এর মিনি নিলামের আসর। তার আগে হার্দিক-অর্শদীপের এই অদলবদল দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির দলগঠনের সমীকরণই বদলে দিতে পারে।














