বকেয়া মজুরির দাবিতে অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের কর্মবিরতিকে কেন্দ্র করে চরম অচলাবস্থা পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতালে। হাসপাতালের অন্যতম প্রধান শর্তই হলো তার পরিচ্ছন্নতা; সেখানে সাফাই কর্মীদের কাজ বন্ধ রাখার অর্থ হলো পরোক্ষভাবে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে রোগীদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া। (Chandrakona Workers Strike)
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাসপাতালের ৬ জন অস্থায়ী কর্মী কাজ বন্ধ রাখায় ৬০ শয্যার এই হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিষেবা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। চন্দ্রকোনা, গড়বেতা ও কেশপুর সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন ওই হাসপাতালের ওপরেই নির্ভরশীল। (Chandrakona Workers Strike)
হাসপাতাল সূত্রে খবর, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এখানে কোনও স্থায়ী সাফাই কর্মী নেই। বর্তমানে মাত্র ২৫০ টাকা দৈনিক মজুরির বিনিময়ে ৬ জন অস্থায়ী কর্মী কাজ চালিয়ে আসছিলেন। অস্থায়ী কর্মীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে সেই পারিশ্রমিকটুকুও মিলছে না। একাধিকবার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ও রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানকে জানিয়েও সুরাহা না হওয়ায় শেষমেশ কর্মবিরতির পথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা। (Chandrakona Workers Strike)
হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবায় সাফাই কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্ড থেকে অপারেশন থিয়েটার— সর্বত্র স্বাস্থ্যসম্মত পরিচ্ছন্নতা বজায় না থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। সাফাই কাজ এভাবে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকলে হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনার স্তূপে হতে পারে, যা থেকে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় থেকে যায়। (Chandrakona Workers Strike)
ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক স্বপ্ননীল মিস্ত্রি ঘটনার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, মূলত ট্রেজারি থেকে টাকা না মেলায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের এই অভ্যন্তরীণ জটে সাফাইয়ের কাজ শিকেয় ওঠায় হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়ছে। (Chandrakona Workers Strike)








