মুক্তির আগেই আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে The Kerala Story 2। ছবির টিজার প্রকাশের পর একটি বিশেষ দৃশ্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। সেই দৃশ্যে কেরালার এক হিন্দু মহিলাকে জোর করে গরুর মাংস খাওয়ানো হচ্ছে— এমন চিত্রায়ণই আপত্তির মূল কারণ। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখরাও এ নিয়ে সরব হয়েছেন।
পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ এই ছবিকে সরাসরি ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে দাগিয়ে দেন। তাঁর দাবি, বিতর্ক তৈরি করে দর্শক টানাই যেন নির্মাতাদের প্রধান লক্ষ্য। বাস্তবের সঙ্গে ছবির উপস্থাপনার বড় ফারাক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে অভিনেতা প্রকাশ রাজের প্রতিক্রিয়ায়। সামাজিক মাধ্যমে তিনি কেরালার খাদ্য-সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। শনিবার তিনি কেরালার সিরিয়ান খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় খাবার বিফ ফ্রাই এবং নারকেল দিয়ে রান্না করা গরুর মাংসের ঝোলের ছবি শেয়ার করেন। তাঁর বক্তব্য, কেরালা এমন একটি রাজ্য যেখানে বহু ধর্ম, বহু সংস্কৃতি ও নানা খাদ্যাভ্যাস একসঙ্গে সহাবস্থান করে। গরুর মাংস, শূকরের মাংস, মাছ কিংবা নিরামিষ— সব ধরনের খাবারই সেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এগুলোকে কেন্দ্র করে বিভাজন নয়, বরং মিলনই কেরালার ঐতিহ্য।
প্রকাশ রাজ আরও ইঙ্গিত দেন, কোনও একটি বিশেষ দৃশ্য দেখিয়ে গোটা রাজ্যের ভাবমূর্তি তুলে ধরা ঠিক নয়। তাঁর মতে, কেরলের সামাজিক কাঠামো বহু বছর ধরে পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের উপর দাঁড়িয়ে। সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে উত্তেজনা ছড়ানো উচিত নয়। তিনি বলেন, শিল্পের স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার সঙ্গে দায়িত্ববোধও সমান জরুরি।
এই বিতর্কে রাজনৈতিক মহলও চুপ নেই। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ছবিটির উপস্থাপনাকে বিভাজনমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের সিনেমা সামাজিক সম্প্রীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, মুক্তির আগেই ‘The Kerala Story 2’ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। শিল্পী সমাজের একাংশ যেখানে ছবির বিরোধিতায় সরব, অন্যদিকে নির্মাতাদের সমর্থনেও রয়েছে একদল দর্শক। ফলে সিনেমা মুক্তির আগে থেকেই জাতীয় স্তরে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।











