বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়ছে। তারই মাঝে বুধবার ভোরে হাওড়ার গোলাবাড়ি-পিলখানা এলাকায় গুলিতে খুন এক ব্যক্তি। প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে এক প্রোমোটারকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। নিহতের নাম সফিক খান । বয়স ২৭ বছর। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, খুব কাছে থেকে গুলি চলিয়ে খুন করা হয়েছে। (Howrah shootout)
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর সাড়ে চারটার কিছু আগে দুই ব্যক্তি হেঁটে এসে সফিকের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। অভিযোগ, খুব কাছ থেকে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। গুরুতর জখম সফিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ। (Howrah shootout)
এলাকার এক চায়ের দোকানের সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার অংশবিশেষ ধরা পড়েছে। ওই ফুটেজে, হামলার পর তড়িঘড়ি না করে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই এলাকা ছাড়তে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তদের। এই দৃশ্য ঘিরেই উঠেছে নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন। এক বাসিন্দার কথায়, অভিযুক্তরা নির্ভয়ে চলে যেতে পারলে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? (Howrah shootout)
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহতের সঙ্গে এলাকার দুই দুষ্কৃতীর পুরনো বিবাদ ছিল। আর্থিক লেনদেন ও চাঁদাবাজির অভিযোগও সামনে এসেছে। মৃতের পরিবারের দাবি, অনেকদিন ধরেই টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। টাকা না দেওয়াতেই এই পরিণতি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ফরেন্সিক দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তকারীরা গুলির খোল-সহ বিভি্ন্ন নমুনা ও আশপাশের ফুটেজ সংগ্রহ করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, আর্থিক লেনদেন—কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
ভোটের আগে এ ধরনের প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক মহল থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া মিলেছে। যদিও প্রশাসনের তরফে অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, তদন্ত কত দ্রুত সত্য উদঘাটন করতে পারে।











