মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা সামরিক পরিস্থিতির মধ্যে বড়সড় একটি দুর্ঘটনার খবর সামনে এল। ইরানি সংবাদমাধ্যমের সূত্রে খবর, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথ হামলায় একটি যাত্রীবাহী বিমান মাটিতেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
সংবাদ মাধ্যম সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটি ইরানের একটি জাতীয় বিমান সংস্থার বিমান যেটি সেই মুহূর্তে বিমানবন্দরে পার্কিং য়ে-তে দাঁড়িয়েছিল। হামলার সময় বিমানটি টেক অফের জন্য প্রস্তুতিতে ছিল কি না, অথবা তাতে কোনও যাত্রী ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। কাজেই হতাহতের বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। এই দুর্ঘটনাটিকে বর্তমানে চলতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের একটি অংশ। ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে একাধিক দফায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। এবার সেই অভিযানের মধ্যেই আঘাতের সম্মুখীন হল বুশেহর বিমানবন্দর। Passenger Plane Destroyed
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দর চত্বরে ঘন কালো ধোঁয়া ভরে যায়, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।অন্যদিকে একই সময়ে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর-সহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার খবর মিলেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিয়োতে হামলার পরবর্তী পরিস্থিতির চিত্র দেখা গিয়েছে। এর মধ্যে বুশেহর শহরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই ইরানের একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত।
ইতিমধ্যে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম Mehr News Agency জানিয়েছে, তেহরানের মেহেরবাদ বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থার প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে, রানওয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে ধূসর রঙের ঘন ধোঁয়া আকাশে উঠছে।সামরিক সূত্রের দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত যুদ্ধজাহাজ থেকে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ে। পাশাপাশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, যেমন F-22 Raptor এবং F-35 Lightning II ব্যবহার করেও বিমানগুলিতে হামলা চালানো হয়।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ইরানি বাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির জেরে বহু আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা তাদের রুট পরিবর্তন করছে বা সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত রাখছে।Passenger Plane Destroyed
সব মিলিয়ে, বুশেহর বিমানবন্দরে যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংসের এই ঘটনা চলমান সংঘাতকে আরও গভীর করেছে। যদিও হামলার পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি ও প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনও বিশদ সরকারি বিবৃতি আসেনি, তবুও ঘটনাটি যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির পরিস্থিতি এখন বিশ্ববাসীর উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।












