এক ডজন গোলেই থেমে থাকার কোনও ইচ্ছে নেই। লক্ষ্য আরও বড়—আরও বেশি গোল। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছেন জেমি ম্যাকলারেন। শুক্রবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ওড়িশা এফসিকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে আইএসএলের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট (Mohun Bagan vs FC Goa)। দলের পাঁচ গোলের মধ্যে চারটিই ম্যাকলারেনের ঝুলিতে। চলতি আইএসএলে প্রথম হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্বও অর্জন করলেন এই অস্ট্রেলিয়ান বিশ্বকাপার।
সবুজ-মেরুন জার্সিতে যত সময় কাটছে, ততই যেন ধারালো হয়ে উঠছেন ম্যাকলারেন। গোল করা যেন তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গোল করে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখছেন তিনি। শুক্রবারের ম্যাচটিও কার্যত হয়ে উঠেছিল ‘ম্যাকলারেন শো’। দলের অন্য গোলটি করেন আলবার্তো রডরিগেজ। ওড়িশা এফসির হয়ে একমাত্র গোলটি করেন রহিম আলি।
এই ম্যাচটি ছিল মোহনবাগান সুপারজায়ান্টের কাছে এক অর্থে প্রতিবাদেরও ম্যাচ। শাস্তিস্বরূপ যুবভারতীতে পূর্ণ দর্শক উপস্থিতির অনুমতি দেয়নি ফেডারেশন। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সমর্থকদের পাশে দাঁড়াতে আংশিক উপস্থিতির প্রতিবাদে বিনামূল্যে টিকিট দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। মাঠে এসে সমর্থকদের দুঃখে সামিল হন তিনি। সেই প্রতিবাদের ভাষা যেন হয়ে উঠলেন ম্যাকলারেন নিজেই। হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করে ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুললেন অজি তারকা। আই লিগের ডার্বিতে একসময় এডে চিডির গোল উৎসবের স্মৃতি ছিল যুবভারতীতে—ম্যাকলারেন যেন সেই পুরনো স্মৃতিকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনলেন।
অন্যদিকে, চলতি আইএসএলে ওড়িশা এফসি যেন এক অনিচ্ছুক দলের মতোই খেলছে। দল গঠনের ক্ষেত্রেও শুরুতে কোনও স্পষ্ট উদ্যোগ দেখা যায়নি। পরে ফেডারেশনের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর তড়িঘড়ি করে দল গড়তে হয়েছে তাদের। যদিও কলকাতায় আসার আগে দুই ম্যাচে অপরাজিত ছিল তারা, কিন্তু প্রস্তুতিহীন ওড়িশার পক্ষে বর্তমান মোহনবাগানকে আটকানো যে কঠিন, তা শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল।
ম্যাচের ১৪ মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন ম্যাকলারেন। পেত্রাতোসের ব্যাকহিল থেকে বল পেয়ে শুভাশিসের ক্রসকে মাথা ছুঁয়ে জালে পাঠান তিনি। মাত্র দশ মিনিট পর আবার গোল করেন অজি ফরোয়ার্ড। লিস্টন কোলাসোর পাস থেকে অনায়াসেই দ্বিতীয় গোলটি করেন ম্যাকলারেন।
এরপর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় মোহনবাগানের হাতে। একসময় রহিম আলিকে সামনে রেখে পুরো ওড়িশা দল ব্যস্ত হয়ে পড়ে সবুজ-মেরুন আক্রমণ সামলাতে। কার্যত মাঠের এক অর্ধেই খেলা হচ্ছিল। ৪২ মিনিটে দূরপাল্লার নিখুঁত শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন আলবার্তো রডরিগেজ। তবে মিনিট খানেক পরই সবুজ-মেরুন রক্ষণে শৈথিল্যের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান কমান রহিম আলি।
প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে আবার গোল করেন ম্যাকলারেন। লিস্টন কোলাসোর পাস থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন তিনি এবং দলের চতুর্থ গোলটি নিশ্চিত করেন।
বিরতির পর আরও গোলের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সুযোগ তৈরি হলেও গোলের মুখ খুলতে পারেননি লিস্টন কোলাসো ও মনবীর সিং। শেষ পর্যন্ত ৮৮ মিনিটে মনবীরের পাস থেকে নিজের চতুর্থ এবং দলের পঞ্চম গোলটি করেন ম্যাকলারেন।
ওড়িশাও ব্যবধান কমানোর কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু রহিম নবি ও রাহুল কেপির সহজ সুযোগ নষ্ট করা এবং বিশাল কাইথের দুর্দান্ত গোলরক্ষণের সামনে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কাইথ।
এই জয়ের ফলে চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করল মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট। মহমেডান স্পোর্টিংয়ের পর এবার ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধেও পাঁচ গোল করল তারা। জয় এবং বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেওয়াকে যেন অভ্যাসে পরিণত করছে সবুজ-মেরুন শিবির। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে ছুঁড়ে দিচ্ছে স্পষ্ট বার্তা—এই মরসুমে তাদের থামানো সহজ হবে না।












