কুশল চক্রবর্তী
বর্তমানে সকলে যে হাতের মুঠোয় একটা ছোট্ট ফোনের মাধ্যমে যা খুশি কাজ করে ফেলছেন, তার পেছনে আছে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবস্থার প্রভাব (Internet revolution in India)। ১৯৯৫ সালের ১৫ই অগস্ট এই ইন্টারনেট ভারতে জনগনের কাছে উন্মুক্ত হলেও, তা আপামর জনগণের কাছে পৌঁছতে অনেক দেরি হয়ে যায়। অবশেষে ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রীয় সরকার উঠে পরে লাগে ইন্টারনেট ব্যবস্থা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে।
ইন্টারনেট ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে তথ্যের সহজ আদান প্রদান। ২০১৬ সালে মুকেশ আম্বানির সংস্থা জিও-র মাধ্যমে অত্যন্ত কম দামে এই ইন্টারনেট পরিষেবা ভারতের জনগনের কাছে তুলে দেওয়ার পর থেকে এই ব্যবস্থার প্রসার হতে থাকে। এক সময় ১ জিবি ডাটার জন্য দিতে হতো ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা সেই এক জিবি ডাটার দাম জিও কমিয়ে আনে প্রায় ২ টাকায়।
এই যে মানুষের মধ্যে তথ্যের আদান প্রদানের ও অন্যান্য সুবিধা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে কেন্দ্রীয় সরকারের পর্দার অন্তরালে ছিল এক বড় ভুমিকা। তাঁরা যে রিলায়েন্স কোম্পানিকে কোনওরকম সরাসরি সুবিধা দিয়েছে তা বলা যাবে না। কিন্তু তাঁরা এমন ভাবে নীতি নির্ধারণ করেন, যাতে কি না এই ইন্টারনেট ডাটার ব্যপারে প্রাইভেট কোম্পানিগুলো বিশেষভাবে সুবিধা পায়। আর সে সুবিধা প্রথমে নিতে আরম্ভ করে রিলায়েন্স জিও। তার পরে এয়ারটেল, ভোডাফোন ও অন্যান্য কোম্পানিগুলোও এই সুবিধা পায়। (Internet revolution in India)
সরকার বাহাদুর ভারতনেট সংস্থার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবস্থা গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে দেওয়ার যে পরিকাঠামো তৈরি করে দেয়, তার একটা বিশাল অংশ কি না রিলায়েন্স জিওর মতো কোম্পানি নিজেদের কাছে লাগায়। এমনকি দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যে টাওয়ার বসাতে লাগে, তার টেন্ডারও জিতে নেয় জিও রিলায়েন্স।
এই সস্তার ইন্টারনেট শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে সুদুর দেশের প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে বেশিদিন লাগেনি। বিগত ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে ভারতের ১৫% লোকের থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করা লোকের সংখ্যা ৭০%-এ পৌঁছে গেছে। ২০১৫ সালে এই ইন্টারনেট ব্যবহার করত ২৫ কোটির মত লোক আর ২০২৬ সালে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ১১১ কোটির মতো ভারতবাসী। এই যে ইন্টারনেটের এত বাড়বাড়ন্ত তা যে শুধু সস্তা ডাটার জন্য হয়েছে তা নয়, এর পেছনে আছে স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহার। স্মার্টফোনের সাহায্যে তথ্যের আদান প্রদান খুব সুবিধাজনক হয়ে যাওয়ায় আর সরকারি কাজে এই ইন্টারনেটের ব্যবহার বাধ্যবাধক হওয়ায়, এই ইন্টারনেট অতি সহজেই জনপ্রিয় হতে আরম্ভ করে। (Internet revolution in India)
কিন্তু বিগত তিন চার বছর ধরেই রাজ্য আর কেন্দ্রীয় সরকারকে মাঝে মাঝেই সরকার বিরোধী আন্দোলন সামলাতে, হিংসা প্রশমিত করতে, এমনকি সার্বজনিক পরীক্ষাকে নিষ্কলঙ্ক রাখতে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে অসুবিধার সন্মুখীন হচ্ছেন অসংখ্য নিস্পাপ মানুষ।
এই ইন্টারনেট যখন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রচেষ্টা চলছিল তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, এই ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রযুক্তির উন্নতিই ভারতকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর এখন ভারত সরকারকে ভাবতে হচ্ছে মোবাইল ডাটার উপর কর বসানোর ব্যাপারে। সরকারের মনোভাব হচ্ছে এতে নাকি একদিকে ডাটার “ভুল” ব্যবহার কমবে, অন্য দিকে নাকি ২৫০০০ কোটি টাকার মতো সরকারের আয়ও হবে। হয়তো উৎসাহ দেওয়া হবে শুধু কথা বলার আদান প্রদানের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করার জন্য। এসব দেখে মনে হয় আমরা ছোট বেলায় একটা রচনা লিখতাম, “বিজ্ঞান –অভিশাপ না আশীর্বাদ” সেই রচনা কি সরকারকে আবার লিখতে হচ্ছে? (Internet revolution in India)










