পশ্চিমবঙ্গ এখন সম্পূর্ণ মাওবাদী মুক্ত। মঙ্গল ও মালতি নামে দুই মাওবাদী স্কোয়াড সদস্যের আত্মসমর্পণের পর এমনই দাবি করলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। শুক্রবার কলকাতায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন ওই দু’জন। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী। আত্মসমর্পণের সময় মঙ্গলের কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল ও কার্তুজ এবং মালতির কাছ থেকে একটি ইনসাস রাইফেল জমা নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁরা। পরে সংগঠন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। (Mangal Malati Surrender)
কিষেণজি ও আকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মঙ্গল
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির রঞ্জায়। ২০১০ সালে তিনি মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেন। সেই সময় মাওবাদী নেতা কিষেণজির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। পরে মাওবাদী নেতা আকাশের সঙ্গেও যুক্ত হন। আকাশের দেহরক্ষী হিসেবেও কাজ করেছিলেন মঙ্গল। তাঁর বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে একাধিক মামলা রয়েছে। পুরনো ছয় থেকে সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। (Mangal Malati Surrender) অন্যদিকে, মালতির বাড়ি ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে। প্রথমে তিনি রঞ্জন মুন্ডার স্কোয়াডে ছিলেন। পরে ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা জঙ্গলে চলে যান। সেখানেই মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
ঝাড়খণ্ডে ছিল সাত লক্ষ টাকার পুরস্কার
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলের মাথার দাম ছিল পাঁচ লক্ষ টাকা। মালতির জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল দুই লক্ষ টাকা। দু’জনের মাথার দাম মিলিয়ে মোট সাত লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এই পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, মঙ্গলের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডেও মামলা রয়েছে। মালতির বিরুদ্ধে কোনও মামলার কথা জানা যায়নি। (Mangal Malati Surrender)
১৩ জনের তালিকায় ছিলেন দু’জন
পুলিশের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত মোট ১৩ জন মাওবাদীর তালিকা ছিল। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছেন, আবার অনেকে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ডে সম্প্রতি রবি, মদন ও মীরা নামে তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন। অনিতা সেখানে আত্মসমর্পণ করেছেন। কলকাতায় গ্রেফতার হয়েছেন মাওবাদী নেতা আকাশ। কয়েক মাস আগে পুষ্পা আত্মসমর্পণ করেন। বাঁকুড়ায় সচিন, জবা ও মিতা আত্মসমর্পণ করেন। মদাই পাত্রও পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এবার মঙ্গল ও মালতির আত্মসমর্পণের পর রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপের অবশিষ্ট উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান মঙ্গল ও মালতি
পুলিশের বক্তব্য, ২০২৬ সালের জানুয়ারির পর তাঁরা সারান্ডা এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন। মাওবাদী কার্যকলাপের উদ্দেশ্য আর পূরণ করা সম্ভব নয় বলে তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন। সেই কারণেই সংগঠন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। পুলিশ আরও জানিয়েছে, রাজ্যের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, মঙ্গল ও মালতির সঙ্গে কথা বলতে ঝাড়খণ্ড পুলিশও আসবে বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের আত্মসমর্পণের পর রাজ্যকে সম্পূর্ণ মাওবাদী মুক্ত বলে দাবি করেছে কলকাতা পুলিশ। তবে এই পরিস্থিতিতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর থাকবে। (Mangal Malati Surrender)











