গত কয়েক মাস ধরে আকাশপথ যেন হয়ে উঠেছিল অনিশ্চয়তার প্রতীক। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ভাড়া, বাতিল ফ্লাইট, যাত্রীদের ভোগান্তি- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে পড়ছিল অশান্ত (Iran-Israel War)। এই অস্থিরতার মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। সোমবার থেকে উঠে যাচ্ছে অভ্যন্তরীণ বিমান ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা। আর সেই সঙ্গেই উঠছে বড় প্রশ্ন—স্বস্তি, নাকি নতুন করে ভাড়ার মূল্যবৃদ্ধি?
সোমবার থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান ভাড়ার ওপর থাকা অস্থায়ী সর্বোচ্চ সীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। যার ফলে এয়ারলাইন সংস্থাগুলি আর ভাড়ার নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না। চাহিদা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ভাড়া নির্ধারণ করতে পারবে।
বহু বিমান বাতিল হওয়ায় হঠাৎ করেই আসন সংখ্যা কমে যায়। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে টিকিটের দামে। যা একলাফে বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করে। অভ্যন্তরীণ রুটে একমুখী ইকোনমি টিকিটের ওপর দূরত্বভিত্তিক সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। যার ঊর্ধ্বসীমা ছিল প্রায় ১৮,০০০ টাকা। মূল লক্ষ্য ছিল আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সাধারণ যাত্রীদের সুরক্ষা দেওয়া।
তবে কয়েক মাস পর সেই সীমাবদ্ধতা এবার তুলে নেওয়া হলো। ফলে, সোমবার থেকে এয়ারলাইনগুলি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণে ফিরছে। চাহিদা বেশি থাকলে ভাড়া বাড়তে পারে, আবার অফ-সিজনে কমতেও পারে। এখন সবটাই নির্ভর করবে বাজারের পরিস্থিতির উপর।
যদিও নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয়েছে, তবু সম্পূর্ণ ছাড়পত্র নয়। এ কথা স্পষ্ট করেছে মিনিসট্রি অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন। মন্ত্রকের নির্দেশে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ চাহিদা, ফ্লাইট বিঘ্ন বা জরুরি পরিস্থিতিতে ভাড়ার অযৌক্তিক বৃদ্ধি হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এছাড়াও জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে ফের ভাড়ার ওপর সীমা আরোপ বা অন্য কোনও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বাড়তে থাকা পরিচালন ব্যয়ের চাপও। এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বিমান পরিষেবা পরিচালনাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে। ফলে, দীর্ঘদিন ধরেই এয়ারলাইন সংস্থাগুলি ভাড়ার ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা চালু থাকলে সংস্থাগুলির আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়ত। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনস (Iran-Israel War) আগেই সতর্ক করেছিল, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ ও পরিচালনগত চ্যালেঞ্জের মধ্যে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে থাকায় সংস্থাগুলির রাজস্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নতুন সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো বিমান পরিবহণ খাতে স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করা। বিগত কয়েক মাসের অস্থিরতার পর ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোতে চাইছে ।
তবে যাত্রীদের দুশ্চিন্তার মেঘ এখনই কাটছে না। কারণ একদিকে যেমন প্রতিযোগিতার বাজারে কম ভাড়ার সম্ভাবনা রয়েছেগ। অন্যদিকে চাহিদা বাড়লেই ভাড়া বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।













1 thought on “Iran-Israel War: ভাড়া নিয়ন্ত্রণমুক্ত আকাশপথ, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে বদলাচ্ছে বিমানের অর্থনীতি”