পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মহলে। বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতির কারণে বহু রেস্তোরাঁ মালিক চরম সমস্যায় পড়েছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে জনপ্রিয় অনেক মেনু বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা হোটেল মালিকদের।
নয়ডা ও গুরুগ্রামে একাধিক রেস্তোরাঁ ও ক্লাউড কিচেন চালান ব্যবসায়ী সুমিত গুলাটি। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সরবরাহকারীরা জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কারণে তারা বাণিজ্যিক গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন না। আপাতত রান্নাঘর চালু রাখতে দিল্লি থেকে সিলিন্ডার জোগাড় করা হচ্ছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। LPG Crisis
সুমিতবাবুর মোট ১০টি আউটলেট রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একটি জায়গায় পাইপের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুবিধা রয়েছে, ফলে সেটি স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। বাকি আউটলেটগুলোতে সমস্যা বাড়ছে, কারণ দিল্লিতে একটি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে এখন প্রায় ২১০০-২২০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগে থেকে প্রায় ২০০ টাকা বেশি।
এই পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (NRAI) কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চেয়ে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে। সংগঠনের দাবি, দেশে পাঁচ লক্ষের বেশি রেস্তোরাঁ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং বছরে প্রায় ৫.৭ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এই খাতে সরাসরি কাজ করেন প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ। তাই এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। সংগঠনের দাবি, যদি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তাবে সংগঠিত রেস্তোরাঁ শিল্পে প্রতিদিন প্রায় ৬০০-৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। শুধু দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলেই দৈনিক ক্ষতি ৫০-৬০ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বেঙ্গালুরু হোটেল মালিকদের সংগঠনও সতর্ক করেছে যে, বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ বন্ধ থাকলে শহরের অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি হোটেল সমস্যার মুখে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে রেস্তোরাঁর মেনুতে। মালিকেরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি না বদলালে গ্রেভি-ভিত্তিক খাবার- যেগুলো রান্না করতে বেশি গ্যাস লাগে, সেসব মেনু থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। তবে তন্দুরি আইটেম যেমন তন্দুরি চিকেন, পনির টিক্কা-সহ নানা ধরনের নান-রুটি বা তন্দুরি মাছ আপাতত চালু থাকছে। LPG Crisis
কিছু রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ইন্ডাকশন ওভেন ব্যবহার শুরু করার কথাও ভাবছে। তবে বড় বড় হাঁড়িতে গ্রেভি রান্না করা ইন্ডাকশনে সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন মালিকেরা। ফলে পরিস্থিতি খারাপ হলে জনপ্রিয় খাবার বাটার চিকেন বা ডাল মাখনি-র মতো পদও সাময়িকভাবে মেনু থেকে সরিয়ে দিতে হতে পারে। রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, আগে থেকেই বিভিন্ন সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি ও শ্রমিক সমস্যার চাপ তো ছিলই। তার উপর এলপিজির এই সংকট রেস্তোরাঁ শিল্পের ওপর আরও বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবের ছবি ভারতের খাবারের ব্যবসায়ে উঠে আসছে দেশের নানা প্রান্ত থেকে। এলপিজির ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতিই নয়, বহু জনপ্রিয় খাবারও সাময়িকভাবে রেস্তোরাঁর মেনু থেকে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। যুদ্ধ আবহে মানুষের জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা আগেই তৈরি হয়েছিল এবার আবার তার প্রভাব রসনাতৃপ্তিতেও। LPG Crisis













1 thought on “LPG Crisis: যুদ্ধ আবহে গ্যাসের ‘আকাল’, বদলাচ্ছে রেস্তোরাঁর মেনু, উৎকণ্ঠায় মালিকেরা”