কুশল চক্রবর্তী
মুশকিল, খুব মুশকিল। ঝুলি থেকে আবার বেড়াল বেড়িয়ে পড়ল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডার যা কিনা আমরা IMF নামেই বেশী চিনি, তাদের ২০২৬-এর এপ্রিল মাসের রিপোর্টে ঘোষণা করল ভারত এখন বিশ্বের ষষ্ঠ অর্থনীতিতে এসে দাঁড়িয়েছে (World GDP Ranking 2026)। এটা ভারতের কোনও সংস্থার মূল্যায়ন নয়, যাতে কি না বলা যায় যে দেশকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। এটা বলছে IMF-এর মত বিশ্বখ্যাত সংস্থা। এবং এটাও বলছে, ভারত ব্রিটেনের চেয়েও নীচে নেমে গিয়েছে।
অথ এই তো সেদিন ২৫ মে, ২০২৫ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভরা সমাবেশে গান্ধীনগরে হাততালির মধ্যে বলেছিলেন, “ভারত কিছু দিনের মধ্যেই পৃথিবীর তৃতীয় অর্থনীতি হতে যাচ্ছে”। কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন কথা বলেছিলেন? কারণ, তখন মানে ২০২৫ সালের মে মাসের পরিসংখ্যান বলছিল যে, ভারত পৃথিবীর চতুর্থ অর্থনীতির মালিক জাপানের জিডিপি-র ৪ ট্রিলিয়ান ডলারের অর্থনীতিকে টপকে চলে যাবে। কারণ, তখন ভারতের অর্থনীতি দাঁড়িয়েছিল আনুমানিক ৩.৯ ট্রিলিয়ান ডলারে। একবছরে কী অবস্থা হলো দেখুন। ভারতের অর্থনীতিকে টপকে চলে গেল ব্রিটেনের অর্থনীতি।
সমন্বয়ের অভাব, 15G আর 15H-এর পরিবর্তিত রূপে মুশকিলে গ্রাহকরা
ভারতের অর্থনীতির উন্নতির সম্ভাবনা যে কমলো তা হয়তো নয়। তা বেড়ে হওয়ার সম্ভাবনা রইল ৪.১৫ ট্রিলিয়ান ডলারে। কিন্তু ব্রিটেনের অর্থনীতি বাড়ার সম্ভাবনা দাঁড়াল ৪.২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে জাপানের অর্থনীতি বাড়ার সুযোগ থাকল ৪.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারে। এবার তাহলে বোঝা যাচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে আশা নিয়ে ভারতীয় অর্থনীতির উন্নয়নের কথা বলেছিলেন তা মেলেনি। তা হলে তার সময়েই যে ভারতের অর্থনীতি আশা অনুযায়ী ফল করতে পারেনি সেটা মেনে নেবেন তো?
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন ভারত পিছিয়ে পড়ল? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশাপূরণ করতে IMF-এর রিপোর্ট বলছে, ডলারের নিরিখে টাকার অবমূল্যায়ন এর অন্যতম কারণ। এই যে দিনের পর দিন ভারতের টাকা নামতে নামতে এক ডলারের বিনিময়ে ৯৪ টাকাতে এসে দাঁড়িয়েছিল, তাতে হয়তো কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ থেকে কোনও কথা শোনা যায়নি। কিন্তু ভারতের অর্থনীতি যে বিশ্বের দরবারে পিছিয়ে পড়েছে তা আশাকরি বলে বোঝাতে হবে না। গান্ধীনগরে ওই বক্তৃতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “বিগত দশকে ভারতের অর্থনীতি ছিল পৃথিবীর ১১তম জায়গায়। আজ তা পৃথিবীর তৃতীয় অর্থনীতিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।” অর্থাৎ কি না ভারতের এই অর্থনৈতিক উন্নতিতে তাঁর সরকারের দানই বেশি। কারণ বিগত ১২ বছর ধরে কেন্দ্রে তাঁর সরকারই চলছে। কিন্তু এখন যখন ভারতীয় অর্থনীতি বিশ্বের মানচিত্রে তিনে ওঠার জায়গায় ছয়ে নেমে গেল। এই দায়িত্ব তিনি বা তাঁর সরকার নেবেন তো? নাকি যুদ্ধের দোহাই দিয়ে তা ঘাড় থেকে সব ঝেড়ে ফেলবেন। ভারতের রাজনীতিই এখন এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে।
বেসরকারি ব্যাঙ্কে আবার প্রতারনা, প্রশ্নের মুখে আমার-আপনার বিনিয়োগ
কোথায় পাওয়া যাবে সেই লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মতো লোক? যিনি কি না ১৯৫৬ সালের ২২ নভেম্বর আরিয়ালুর রেল দুর্ঘটনায় ১৫০ জনের বেশী লোক মারা যাওয়ায়, এই রেল দুর্ঘটনার পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে রেলমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান।













ইদানিং সারা পৃথিবী জুড়ে রাজনীতি নেই, আছে দুর্নীতি। ভারতের নেতা নেত্রীরা মুখে যত বড়াই করুন না কেন, ভেতরে ভেতরে তারা সেটিং করে চলেন। সেইজন্য নেতারা এবং তাদের সহযোগী বিশাল মাপের কিছু ধনী ব্যবসায়ী এবং সাঙ্গপাঙ্গরা ছাড়া অন্য নাগরিকদের জীবন অসাম্য এবং কষ্টে ভরা। But, they have forgotten that, ultimately truth alone triumphs, never falsehood.