পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিন চলতে থাকার যুদ্ধ পরিস্থিতির পর বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এবং জোগান দুটিই অনিশ্চিত। গত মাসে ধাপে ধাপে চারবার দাম বেড়েছে পেট্রোল ডিজেলের। এই অবস্থায় বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা কমাতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবার দেশ জুড়ে ধাপে ধাপে চালু করা হবে E85 জ্বালানি, যা E20 পেট্রোলের তুলনায় প্রতি লিটারে ২০ টাকা কম দামে বিক্রি হবে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি দিল্লিতে একটি E85 ফুয়েল ডিসপেন্সিং স্টেশনের উদ্বোধন করে এই ঘোষণা করেছেন।
মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলিই এই নতুন জ্বালানি বাজারে আনবে। তবে E85 ভারতীয় বাজারে সম্পূর্ণ নতুন হওয়ায় গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে দাম কম রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে এক থেকে যেমন ভারতীয় বাজারে জ্বালানির যোগান বজায় থাকবে অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে।
কী এই E85?
E85 হলো এমন এক ধরনের জ্বালানি, যেখানে ৮৫ শতাংশ ইথানল এবং ১৫ শতাংশ পেট্রোল মেশানো থাকে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দিল্লিতে এই জ্বালানির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে। রাজধানীতে এই E85-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৮২.১২ টাকা। বর্তমানে E20 পেট্রোলের দাম ১০২.১২ টাকা প্রতি লিটার। অর্থাৎ এই নতুন জ্বালানি সরবরাহ শুরু হলে গ্রাহকরা লিটারপিছু প্রায় ২০ টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন।
রাষ্ট্রপুঞ্জে কাশ্মীর বিতর্ক, পাকিস্তানকে ‘বিরাট দায়িত্ব’ মনে করাল ভারত
তবে এই জ্বালানি সব ধরনের যানবাহনে ব্যবহার করা যাবে না। শুধুমাত্র ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তিযুক্ত যানবাহনই E85-এ চলতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই দেশের কয়েকটি গাড়ি এবং টু হুইলার নির্মাতা সংস্থা E85-তে চলতে সক্ষম এমন মডেল বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রের মতে, ইথানলভিত্তিক এই জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে একদিকে যেমন দূষণ কমবে, অন্যদিকে তেলের আমদানি ব্যয়ও হ্রাস পাবে।
তবে এখনই দেশের সর্বত্র এই জ্বালানির বিপুল যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে E85 সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। এই নয়া উদ্যোগের ফলে আগামীতে আর গাড়িতে তেল ভিড়তে গিয়ে মধ্যবিত্ত পকেট ফাঁকা হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।











