৯২-তে এসে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন ভারতীয় সংগীত জগতের কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে। যাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। প্রায় আট দশক ধরে বলিউড থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ, সব জায়গাতেই নিজের অসামান্য প্রতিভার ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। আর সেই দীর্ঘ সংগীতজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন অসংখ্য সম্মান ও পুরস্কার, যা তাঁকে ভারতীয় সংগীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে কোন কোন সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে?
ভারত সরকারও তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে একাধিক সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করেছে। ২০০০ সালে তিনি পান ‘পদ্মভূষণ’, এরপর ২০০৮ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’। এছাড়াও ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। রাজ্যে সরকারের তরফে ২০১৮ সালে ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানও পান তিনি।
জাতীয়স্তরেও তাঁর কৃতিত্ব অনস্বীকার্য। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-এ তিনি দু’বার সেরা মহিলা প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে সম্মানিত হন। ১৯৮১ সালে “দিল চিজ কিয়া হ্যায়” এবং ১৯৮৭ সালে “মেরা কুছ সামান”—এই দুটি গান তাঁকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার। (Asha Bhosle News)

ফিল্মফেয়ারে মোট সাতবার সেরা মহিলা প্লেব্যাক সিঙ্গারের পুরস্কার জিতেছেন তিনি। ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত একের পর এক হিট গানের জন্য এই সম্মান পান। পরবর্তীকালে তাঁকে ফিল্মফেয়ারের বিশেষ পুরস্কার এবং ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ অ্যাওয়ার্ডেও সম্মানিত করা হয়।আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তাঁর সাফল্য সমানভাবে উজ্জ্বল। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড-এর জন্য তিনি দু’বার মনোনীত হয়েছেন, যা বিশ্বসংগীতের ক্ষেত্রে এক বিরল কৃতিত্ব।
এছাড়াও BBC লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, MTV অ্যাওয়ার্ড এবং চ্যানেল ভি অ্যাওয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিক সম্মানও পেয়েছেন তিনি।শুধু তাই-ই নয়, বিভিন্ন জনপ্রিয় অ্যাওয়ার্ড শোতেও তাঁর সাফল্যের ছাপ স্পষ্ট। IIFA Awards-এ তিনি সেরা প্লেব্যাক সিঙ্গার এবং লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট—দুই ধরনের সম্মানই অর্জন করেছেন। পাশাপাশি Zee Cine Awards এবং স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডেও তাঁর নাম বারবার উঠে এসেছে।
Asha Bhosle Dies: প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে, সংগীত জগতের অপূরণীয় ক্ষতি
এছাড়া আরও বহু সম্মান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে – ‘নাইটিঙ্গেল অফ এশিয়া অ্যাওয়ার্ড’, ‘লতা মঙ্গেশকর অ্যাওয়ার্ড’, ‘ফ্রেডি মার্কারি অ্যাওয়ার্ড’সহ অসংখ্য স্বীকৃতি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট পেয়েছেন।সংগীতজগতে তাঁর অবদান শুধু পুরস্কারেই সীমাবদ্ধ নয়, রেকর্ডের খাতাতেও তাঁর নাম উজ্জ্বল। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করা শিল্পীদের মধ্যে তিনি অন্যতম, যার স্বীকৃতি হিসেবে ‘গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে’ও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। (Asha Bhosle News)
আশা জি আর নেই, তবে পিছনে ফেলে রেখে গেছেন তাঁর এক সুরেলা কর্মজীবন। সব মিলিয়ে, কয়েক দশকের কেরিয়ারে ৭০টিরও বেশি পুরস্কার এবং অসংখ্য মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। তাঁর এই অসামান্য সাফল্য প্রমাণ করে- তিনি শুধুমাত্র একজন গায়িকা নন, বরং ভারতীয় সংগীতের এক অমূল্য সম্পদ, যাঁকে শ্রোতারা চিরকাল মনে রাখবেন।










