রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গত জুন মাস থেকেই রাজ্যের ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য মহিলাকে দেওয়া হচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক ৩০০০ টাকা। যদিও জুনে প্রথম দফার টাকা যেদিন টাকা ঢুকেছিল, তখনও পর্যন্ত অনেকেই আবেদন করে উঠতে পারেননি। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, তিন মাস ধরে চলবে আবেদন প্রক্রিয়া। যারা ইতিমধ্যে আবেদন করছেন তারা সকলেই জুলাইয়ের ১ তারিখেই টাকা পেয়ে যাবেন। সেই অনুযায়ী গত বুধবার থেকেই রাজ্যের বহু মহিলার অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। তবে অনেকেই আবেদন করেও এখনও টাকা পাননি। তাদের মনে প্রশ্ন তাহলে কি তাদের ফর্ম বাতিল হয়েছে? (Annapurna Yojona)
সরকারি তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬০ হাজার। তবে এর মধ্যে ২৬ লক্ষ ফর্ম বাতিল হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারণটাও সকলেরই জানা, যাদের নাম বাদ গিয়েছে তারা নিশ্চয়ই এই যোজনার আওতায় আসার জন্য উপযোগী নন। তবে যারা সকল নিয়ম বা শর্ত অনুযায়ী এই প্রকল্পের সুবিধা পাবার উপযোগী তারাও দাবি করছেন, আবেদন করার পরেও অনেকের অ্যাকাউন্টে এখনও ৩,০০০ টাকা পৌঁছায়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে, তাদের আবেদন কি বাতিল হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, তাহলে কেন? জেনে নিন ঠিক কোন কোন কারণে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন বাতিল হতে পারে।
১. সরকারি নিয়মে, আবেদন জমা পড়ার পর তা প্রথমে ব্লক স্তরে এবং পরে জেলা স্তরে (ডিস্ট্রিক্ট লেভেল) খুঁটিয়ে যাচাই করা হয়। এই ভেরিফিকেশনেই কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে আবেদন বাতিল হতে পারে।
২. সবচেয়ে বড় কারণগুলির মধ্যে একটি হল ভুল তথ্য দেওয়া। আবেদনপত্রে যদি আধার নম্বর বা ভোটার কার্ড (EPIC) নম্বর ভুল লেখা হয়, তাহলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শুধু নম্বর ঠিক থাকলেই হবে না, ভোটার কার্ডটি বৈধ কি না বা সেটি নিয়ে কোনও ট্রাইব্যুনালে মামলা রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হবে।
৩. এছাড়াও, যারা আয়কর (ইনকাম ট্যাক্স) দেন, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। কেউ যদি প্যান কার্ডের তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেন, তাহলেও লাভ হবে না। কারণ আধারের সঙ্গে প্যান লিঙ্ক থাকায় ভেরিফিকেশনের সময় সেই তথ্য সহজেই ধরা পড়ে যাবে। (Annapurna Yojona)
৪. সরকারি কর্মচারী এবং সরকারি পেনশনভোগীরাও এই প্রকল্পের ৩,০০০ টাকা পাওয়ার জন্য যোগ্য নন। আবেদনপত্রে এই তথ্য গোপন করলেও যাচাইয়ের সময় তা সামনে চলে আসবে এবং আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
আবার অনেকেরই ধারণা, বিডিও বা পঞ্চায়েত অফিসে জমা পড়া বিপুল সংখ্যক অফলাইন আবেদনপত্র হয়তো আর এন্ট্রিই করা হবে না। তবে এই ধারণা সঠিক নয়। অতীতেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং কৃষক বন্ধু প্রকল্পের মতো বড় বড় সরকারি প্রকল্পের আবেদন অফলাইনেই নেওয়া হয়েছিল এবং যাচাইয়ের পর উপযুক্ত আবেদনকারীরা নির্ধারিত সময়ে টাকা পেয়েছিলেন। (Annapurna Yojona)
তাই আপনি যদি এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে থাকেন, তাহলে অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে আগে দেখে নিন আবেদনপত্রে কোনও ভুল তথ্য রয়েছে কি না। ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হওয়ার পরই যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের অর্থ পাঠানো হবে।











