বাড়ির কোণে কোণে জ্বলছে মাটির প্রদীপ। রান্নাঘরে তৈরি হচ্ছে ১৪ রকমের শাক। কালীপুজোর আগের দিন বাঙালির ঘরে ঘরে এমনই পরিচিত ছবি দেখা যায় ভূত চতুর্দশীতে। এই দিন ১৪ প্রদীপ জ্বালানো এবং ১৪ শাক খাওয়ার রীতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। প্রচলিত বিশ্বাস, এই আচার অশুভ শক্তি দূর করে এবং সংসারে শুভ শক্তির আগমন ঘটায়। তাই কালীপুজোর আগে এই বিশেষ তিথির জন্য প্রস্তুতি নেন অনেকেই। কিন্তু কবে পড়েছে ভূত চতুর্দশী? এই দিন ঘিরে কী কী রীতি প্রচলিত রয়েছে? (Bhoot Chaturdashi 2026)
ভূত চতুর্দশীর গুরুত্ব
হিন্দুদের কাছে ভূত চতুর্দশী একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। অনেকের কাছে এটি নরক চতুর্দশী নামেও পরিচিত। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন দেবী কালিকা চামুণ্ডা রূপে মর্ত্যে আসেন। তাঁর সঙ্গে ভূত-প্রেতাত্মারাও আসে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। আবার লোককথা অনুযায়ী, এই তিথিতে দৈত্যরাজ বলিও পৃথিবীতে আসেন। তাঁকে ঘিরেও নানা ধর্মীয় বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। এই দিন বাড়িতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস, প্রদীপের আলো অশুভ শক্তি দূর করে শুভ শক্তির পথ প্রশস্ত করে। সাধারণত মাটির প্রদীপে সর্ষের তেল দিয়ে আলো জ্বালানো হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, প্রদীপের শিখা উত্তরমুখী রাখা হয়। (Bhoot Chaturdashi 2026)
কেন খাওয়া হয় ১৪ শাক?
ভূত চতুর্দশীতে ১৪ রকমের শাক খাওয়াও বাঙালির অন্যতম প্রাচীন রীতি। প্রচলিত বিশ্বাস, এই শাক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ঋতু পরিবর্তনের সময় শরীর সুস্থ রাখার উদ্দেশ্যেও এই শাক খাওয়ার প্রথা চালু রয়েছে। এই ১৪ শাকের তালিকায় রয়েছে ওল শাক, কেঁউ শাক, বেতো শাক বা বাস্তুক, কালকাসুন্দে শাক, সর্ষে শাক, জয়ন্তী শাক, শালিঞ্চে বা হেলঞ্চে শাক, গুলঞ্চ শাক, পলতা বা পটল পাতা, শুলফা শাক, ঘেঁটু শাক, শুষনি শাক, মূল বা মুলোর পাতা এবং ব্রাহ্মী শাক। কিছু এলাকায় নিম শাকও ব্যবহার করা হয়। (Bhoot Chaturdashi 2026)
ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে উৎসব
১৪ প্রদীপ জ্বালানো এবং ১৪ শাক খাওয়ার রীতি আজও বাঙালির উৎসবের অন্যতম অংশ। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি এই প্রথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য। তাই কালীপুজোর আগে ভূত চতুর্দশী এলেই বাড়িতে বাড়িতে শুরু হয় প্রদীপ জ্বালানো এবং শাক রান্নার প্রস্তুতি।











