আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। উল্টো রথের দিন মাসির বাড়ি থেকে রথে চড়ে নিজের মন্দিরে ফিরে আসেন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা। এই দিনটিকেই রথযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি হিসেবে ধরা হয়। অনেক ভক্তই পুরীতে গিয়ে এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারেন না। তবে তাই বলে মন খারাপ করার কোনও কারণ নেই। বাড়িতেই ভক্তিভরে জগন্নাথদেবের পছন্দের সাত্ত্বিক ভোগ নিবেদন করে তাঁর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। বিশ্বাস করা হয়, আন্তরিক ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিবেদন করা ভোগই ঈশ্বরের কাছে সবচেয়ে প্রিয়।
উল্টো রথ উপলক্ষে জগন্নাথদেবের প্রিয় কয়েকটি ভোগ সহজেই বাড়িতে তৈরি করা যায়। আসুন জানা যাক কোন কোন ভোগ রয়েছে সেই তালিকায়?
খাজা (Jagannath Ratha Yatra)
ভগবান জগন্নাথের অন্যতম প্রিয় মিষ্টান্ন হলো ‘খাজা’। ময়দা, ঘি এবং চিনির রস দিয়ে তৈরি এই খাস্তা মিষ্টি পুরীর মহাপ্রসাদের একটি পরিচিত অংশ। বাইরে মুচমুচে হলেও ভেতরে নরম ও ঝুরঝুরে। রথযাত্রা এবং অন্যান্য শুভ উৎসবে খাজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই উলটো রথের দিন এই মিষ্টি ভোগ হিসেবে নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
কণিকা
ওডিশার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ভাত ‘কণিকা’ও জগন্নাথদেবের অত্যন্ত প্রিয় ভোগের মধ্যে অন্যতম। চাল, ঘি, গুড়, এলাচ, লবঙ্গ, কাজু ও কিশমিশ দিয়ে তৈরি এই সুগন্ধি ভাত খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনই ভোগ হিসেবে বিশেষ জনপ্রিয়। এর হালকা মিষ্টি স্বাদ ও মনোরম সুবাস ভোগের থালাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
পোড়া পিঠা
চালের গুঁড়ো, নারকেল ও গুড় দিয়ে তৈরি ‘পোড়া পিঠা’ ধীরে ধীরে সেঁকে বা বেক করে প্রস্তুত করা হয়। এই পিঠার হালকা ধোঁয়াটে সুবাস এবং নরম স্বাদ একে অন্যরকম করে তোলে। জগন্নাথদেবের উদ্দেশে এটি ভোগ হিসেবে নিবেদন করারও প্রচলন রয়েছে।
নাড়িয়া পাচাড়ি
‘নাড়িয়া পাচাড়ি’ মূলত নারকেলের তৈরি একটি বিশেষ চাটনি। কোরানো নারকেল, দই, কাঁচালঙ্কা এবং হালকা মশলা দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। অনেক সময় এতে সর্ষে, আদা ও কারিপাতার ফোড়নও দেওয়া হয়। হালকা টক স্বাদের এই পদটি সাধারণত কণিকা বা অন্নজাতীয় ভোগের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। ভোগের থালায় এটি থাকলে খাবারের স্বাদ আরও বাড়ে।
জগন্নাথদেবের ৫৬ ভোগের অন্যতম ‘টঙ্কা তোরানি’, গরমে মন জুড়িয়ে দেয় টক-ঝাল এই প্রসাদ
ঘিয়া অন্ন
জগন্নাথদেবের বিখ্যাত ৫৬ ভোগের অন্যতম পদ হলো ‘ঘিয়া অন্ন’। ঘি মেশানো সুগন্ধি ভাত দিয়ে তৈরি এই ভোগ সহজপাচ্য এবং অত্যন্ত সুস্বাদু। অনেক সময় এতে ডাল বা সবজিও যোগ করা হয়। সহজে তৈরি এই পদটি ভক্তদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। (Jagannath Ratha Yatra)
উল্টো রথের দিন ভোগের আড়ম্বরের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ভক্তি এবং আন্তরিকতা। তাই পুরীতে যেতে না পারলেও বাড়িতে এই সাত্ত্বিক ভোগগুলি নিবেদন করে ভগবান জগন্নাথের আরাধনা করা যেতে পারে। বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে নিবেদন করা এই ভোগ ভক্তের মনের প্রার্থনাকেই পৌঁছে দেবে প্রভুর চরণে।












