বর্ষার শুরুতেই ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে অসম। টানা বৃষ্টি মঙ্গলবার রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যার প্রথম দফাতেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪। ইতিমধ্যেই ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রশাসনের আশঙ্কা, প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA)-র প্রকাশিত সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, বন্যার সর্বশেষ বলি হয়েছেন শোনিতপুর জেলার চারিদুয়ারের এক বাসিন্দা। তিনি সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘ তল্লাশির পর মঙ্গলবার তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এই মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারে পৌঁছেছে। (Assam Flood Situation )
বন্যার জলে বর্তমানে শোনিতপুর, ডিব্রুগড়, লখিমপুর, ধেমাজি, জোরহাট এবং শিবসাগর এই ছয়টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ৯৯ টি গ্রাম। নদীর জল উপচে পড়ায় বহু এলাকায় রাস্তা-ঘাট, বাড়িঘর এবং কৃষিজমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি লখিমপুর জেলায়। ASDMA-র তথ্য অনুযায়ী, এই জেলাতেই ৩৫,৬৯৬ জন মানুষ বন্যার কারণে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়েছেন।
১৮ দিন অনশনে সোনম ওয়াংচুক, জোর করে খাবার দেওয়ার দাবিতে দিল্লি হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা
বন্যার প্রভাব শুধু মানুষের জীবনেই নয়, কৃষি ও পশুপালনেও পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই বন্যার ফলে ১,১০৩.৯৪ হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। এছাড়া গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি-সহ মোট ১৬,১৩৯টি প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষক ও পশুপালকদের বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। (Assam Flood Situation)
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ২০টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে দুর্গতদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। উদ্ধারকাজও জোরকদমে চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF)-এর উদ্ধারকারী দল সোনিতপুর জেলা থেকে ১৬ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। প্রয়োজনে আরও উদ্ধারকারী দল মোতায়েনের জন্যেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।












