[ছবি:এক্স]
অসমের তিনসুকিয়া শহরে জনসমক্ষে প্রস্রাব ও আবর্জনা ফেলা রুখতে নেওয়া হয়েছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ‘হল অব শেম’ (Tinsukia Hall of Shame) নামে চালু হওয়া এই অভিযানে CCTV ক্যামেরায় ধরা পড়া অভিযুক্তদের ছবি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে থাকা LED স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
অসমের অন্যতম বৃহৎ শিল্পনগরী তিনসুকিয়ায় এই অভিযান শুরু করেছে তিনসুকিয়া মিউনিসিপ্যাল বোর্ড। শহরের একাধিক স্থানে বসানো CCTV ক্যামেরার মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রস্রাব করা বা আবর্জনা ফেলছেন— এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। পরে সেই ছবি প্রকাশ্যে LED ডিসপ্লেতে দেখিয়ে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত রাখাই প্রশাসনের লক্ষ্য। (Tinsukia Hall of Shame)
Tinsukia Municipality in Assam is displaying images of people caught urinating in public on LED screens.
— Milind Deora | मिलिंद देवरा (@milinddeora) July 13, 2026
Should @mybmc also consider naming, shaming & fining habitual public urinators, spitters, litterers & blacklisted contractors? At the same time, clean, safe & accessible… pic.twitter.com/pnPkScTfjp
এই (Tinsukia Hall of Shame) উদ্যোগ জাতীয় স্তরে আলোচনায় আসে, যখন রাজ্যসভার সাংসদ মিলিন্দ দেওরা সামাজিক মাধ্যম X-এ বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুম্বইয়ের নাগরিক প্রশাসনও অভ্যাসগতভাবে জনসমক্ষে প্রস্রাব, থুতু ফেলা বা আবর্জনা ছড়ানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ‘নেম অ্যান্ড শেম’-এর পাশাপাশি জরিমানার ব্যবস্থা বিবেচনা করতে পারে। তবে একই সঙ্গে পর্যাপ্ত, পরিষ্কার ও নিরাপদ পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনসুকিয়ার বহু বাসিন্দা এই (Tinsukia Hall of Shame) উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তাঁদের দাবি, শুধু নজরদারি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। ব্যস্ত বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকায় পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের অভাব এখনও বড় সমস্যা। তাঁদের মতে, সরকার যদি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে চায়, তাহলে আগে পর্যাপ্ত ও সহজলভ্য শৌচাগারের ব্যবস্থা করতে হবে।
অন্যদিকে, এই (Tinsukia Hall of Shame) অভিযানকে ঘিরে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন হলেও অভিযুক্তদের ছবি প্রকাশ্যে দেখানোর ক্ষেত্রে মানবিকতা ও ব্যক্তিগত সম্মানের বিষয়টিও সমানভাবে বিবেচনা করা উচিত। ফলে তিনসুকিয়ার এই ‘হল অব শেম’ উদ্যোগ এখন পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক দায়িত্ব, গোপনীয়তা এবং উন্নত নাগরিক পরিকাঠামো— এই চারটি বিষয়কে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
১৫০ কোটির সম্পত্তির লোভ, বাবাকে গুলি করে খুন











