ভারতীয় সেনার শক্তি আরও বাড়াতে আমেরিকার কাছ থেকে অত্যাধুনিক ‘জ্যাভলিন’ (Javelin) অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল সিস্টেম কিনছে ভারত। শুক্রবার ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এই সংক্রান্ত চুক্তিপত্র (LOA) সই হয়েছে। মার্কিন ফরেন মিলিটারি সেলস (FMS) ব্যবস্থার মাধ্যমে এই চুক্তি হয়েছে। (Javelin Anti Tank Missile)
এই চুক্তিকে ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, এর ফলে দু’দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা শিল্পে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগও বাড়বে। চুক্তির পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে জ্যাভলিন (Javelin) ব্যবস্থার গ্রাহক হয়ে গেল। তবে এই মুহূর্তে চুক্তির মোট মূল্য এবং কতগুলি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হচ্ছে, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সর্জিও গোর জানিয়েছেন, এই চুক্তি প্রমাণ করছে যে ভারত-আমেরিকার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর, শক্তিশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাঁর মতে, জ্যাভলিন চুক্তি ভারতীয় সেনার প্রতি আমেরিকার সমর্থনের কথাও স্পষ্ট করছে। একই সঙ্গে দু’দেশের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির মধ্যে ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে সহযোগিতার দরজাও খুলছে।
Javelin হলো একটি ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল। অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর অপারেটরকে সেটিকে ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণ করতে হয় না। যুদ্ধে ব্যবহৃত গাড়ি, ট্যাঙ্ক এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে এটি ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে এই ব্যবস্থা মার্কিন সেনাবাহিনী, মার্কিন মেরিন কর্পস এবং একাধিক দেশের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে। এবার সেই তালিকার যুক্ত হলো ভারত। (Javelin Anti Tank Missile)
পাকিস্তানে বসেই ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে উঁকি ISI এর, গ্রেফতার ‘স্পাই দম্পতি’
তবে এই চুক্তি শুধু ক্ষেপণাস্ত্র কেনাবেচাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। মার্কিন দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, LOA সইয়ের পর দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক যৌথ উৎপাদন (co-production) নিয়েও আলোচনা এগোতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে ভারত ও আমেরিকার প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে এই জ্যাভলিন চুক্তি ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।









