সোমবার লোকসভায় পেশ হওয়া ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI) বিল ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হলো। এই বিলটি সংসদে পেশের পর, এই বিলের বিরুদ্ধে বিরোধিতায় সরব হয়েছেন সাতজন সাংসদ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায় ও প্রতিমা মণ্ডল। আগামী বুধবার লোকসভায় বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে (Indian Statistical Institute Bill)।
এদিকে সিপিআই(এমএল) সাংসদ রাজা রাম সিং বিলটিকে সংসদের স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে তিনি পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে প্রতিমন্ত্রী রাও ইন্দ্রজিৎ সিংকে চিঠিও দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিলটির বিরোধিতা করছেন আইএসআইয়ের একাংশের অধ্যাপক ও গবেষকরাও (Indian Statistical Institute Bill)।
Indian Statistical Institute Bill: ISI বিল ঘিরে বিতর্ক কেন?
কেন্দ্রের দাবি, নতুন বিলের মাধ্যমে আইএসআই-কে আন্তর্জাতিক মানের ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কিন্তু সমালোচকদের অভিযোগ, এর ফলে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের স্বশাসন ও একাডেমিক স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে।
এই বিলের কাজ কী?
খসড়া বিল অনুযায়ী, আইএসআই পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী বোর্ড অফ গভর্নর্স গঠন করা হবে। দেশের রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠানের ‘ভিজিটর’ হিসেবে থাকবেন। তাঁর অধীনে বোর্ড অফ গভর্নর্স, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল, ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিল এবং ডিরেক্টর কাজ করবেন। ভিজিটর প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম পর্যালোচনা, তদন্ত বা বিশেষ পর্যবেক্ষণের নির্দেশও দিতে পারবেন।
বিলে আরও বলা হয়েছে, বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আইএসআইয়ের কেন্দ্রগুলিকে স্থানান্তর, পুনর্গঠন বা একীভূত করতে পারবে। পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য তহবিল সংগ্রহের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রকে নিজস্ব প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
অধ্যাপকদের একাংশের আশঙ্কা, মন্ত্রকের মনোনীত সদস্যদের প্রভাব বেড়ে গেলে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের ভূমিকা কমে যেতে পারে। প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তের অধিকাংশ ক্ষমতা বোর্ডের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিসর সংকুচিত হতে পারে বলে তাঁদের মত।











1 thought on “ISI বিল ঘিরে বিতর্ক, সংসদের সরব বিরোধীরা”