এত বছর পর সত্যিই কি ভারত ফিরে পাবে তাদের ‘কোহিনুর’? বিভিন্ন মহলে এখন এই একটাই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ এতদিন পর কেন এই প্রসঙ্গ?
ইংরেজরা তাদের ২০০ বছরের রাজত্বে ভারত থেকে একাধিক জিনিস তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ভিড় করেছে। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এই কাজ করেছে। আর এগুলোর মধ্যে যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো কোহিনূর হিরে। একাধিকবার আবেদন করলেও সেই হিরে ফেরায়নি ব্রিটিশ সরকার। এ বার ভারতের পাশে দাঁড়ালেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক সফরে গিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। এই পরিস্থিতিতে নিউ ইয়র্কের মেয়র ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাতের আগে মামদানি আবেদন করেন কোহিনুর ফেরানোর কথা। আজ চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা ছিল মামদানির। আর সেই বৈঠকের আগে মামদানি একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “ব্রিটেনের রাজার সঙ্গে আলাদাভাবে আমি সাক্ষাৎ করলে, আমি তাঁকে কোহিনুর হিরেটি ভারতে ফিরিয়ে দিতে বলব।” (Kohinoor Diamond)
‘কোহিনুর’- নামেই দ্যুতি ছড়ায়। বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই হিরেটি পাওয়ার স্বপ্ন একবারের জন্যও দেখেননি, এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু ভাগ্যচক্রে মহামূল্যবান, ঔজ্জ্বল্যময় এই হিরেটির অধিকারী এককভাবেই ব্রিটিশ রাজপরিবার। যা নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলছে বিতর্ক। ব্রিটিশ ক্রাউনের মধ্যে বসানো ১০৫.৬ ক্যারেটের এই হিরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮৪৯ সালে ভারত থেকে নিয়ে চলে যায়। লাহোর চুক্তির মাধ্যমে ওই হিরে হস্তান্তরিত হয়ে যায় রানি ভিক্টোরিয়ার কাছে। সেই সময় ভারত এই হিরের উপরে নিজের অধিকার দাবি করলেও, ব্রিটিশরা ১৯ শতকের ওই চুক্তির উপরে ভিত্তি করেই দাবি করে যে ‘কোহিনুর’ আসলে তাদেরই।
The Bookworm: প্রবল বৃষ্টিতে ভাসল বই, কলেজ স্ট্রিটের স্মৃতি ফিরল বেঙ্গালুরুতে, কঠিন সময়ে পাশে পাঠকরা
এর পরে কেটে গিয়েছে অনেকগুলি বছর, একাধিকবার ভারতের তরফে ওই হিরের উপর নিজেদের অধিকার দাবি করা হলেও সেটি রয়ে গেছে ব্রিটেনেই। এতদিন পর নিউইয়র্কের মেয়রের মুখে কোহিনুর ফেরানোর আর্জি শুনে তাই ভারতীয়রা অনেকেই আশার আরো দেখতে শুরু করেছে। (Kohinoor Diamond)
যদিও দু’জনের বৈঠকে এই হিরের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সেটা এখনও জানা যায়নি। এর আগে ভারতে কোহিনুর ফেরানোর দাবি উঠেছে বহুবার। নয়াদিল্লি একসময়ে বলেছিল, “কোহিনুর একটি মূল্যবান শিল্পকর্ম, যার শিকড় দেশের ইতিহাসে গভীরভাবে প্রোথিত।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত মহামূল্যবান হিরেটি নিজেদের কাছেই রেখে দিয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবার। এই পরিস্থিতিতে মামদানির মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে নানান আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও নিউ ইয়র্কের মেয়রের এই মন্তব্য নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি ব্রিটিশ রাজপরিবার। (Kohinoor Diamond)











