স্বস্তিকর গরম আর দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া থাকার পরই ভারতে বর্ষা কবে ঢুকবে, তা নিয়ে প্রতি বছরই সাধারণ মানুষের কৌতূহল থাকে তুঙ্গে। আর সেই বর্ষা আগমনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো কেরলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ। সাধারণত প্রতি বছর ১ জুন কেরলে বর্ষা পৌঁছয়। তবে এই সময়ের ক্ষেত্রে প্রায় ৭ দিন পর্যন্ত হেরফের হতে পারে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) ২০০৫ সাল থেকেই কেরলে বর্ষা প্রবেশের সম্ভাব্য তারিখের পূর্বাভাস দিয়ে আসছে। এই পূর্বাভাসের জন্য তারা ব্যবহার করে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি আধুনিক পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল। আবহাওয়া দফতরের দাবি, এই মডেলের সম্ভাব্য ত্রুটি মাত্র ±৪ দিন। অর্থাৎ পূর্বাভাসে যেদিন বলা হয় তার দিন চারেক আগে বা পরেই সেরকম আবহাওয়ার দেখা মেলে। (Monsoon Coming)
এই বিশেষ মডেলে মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত সূচক খতিয়ে দেখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর-পশ্চিম ভারতের ন্যূনতম তাপমাত্রা, দক্ষিণ উপদ্বীপে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিপাত, দক্ষিণ চিন সাগর ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের আউটগোয়িং লং ওয়েভ রেডিয়েশন (OLR), এবং দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত মহাসাগরের নিম্নস্তরের বায়ুপ্রবাহের পরিস্থিতি।IMD জানিয়েছে, গত ২১ বছরে অর্থাৎ ২০০৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের বর্ষা আগমনের পূর্বাভাস প্রায় সব ক্ষেত্রেই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। শুধুমাত্র ২০১৫ সালে এই পূর্বাভাসে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছিল।
RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ, সাসপেন্ড তিন IPS অফিসার
২০২৬ সালের জন্য আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, এ বছর কেরলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিক সময়ের আগেই প্রবেশ করতে পারে। IMD-এর মতে, আগামী ২৬ মে নাগাদ কেরলে বর্ষা পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই পূর্বাভাসেও ±৪ দিনের এদিক ওদিক হতে পারে।সব কিছু অনুকূলে থাকলে, চলতি বছর নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই দেশে বর্ষার সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। এর ফলে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে। (Monsoon Coming)












